খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার ফুটবলের ইতিহাসে গ্যালারিপ্রেমী সমর্থকরা অনেক, কিন্তু আতাউর রহমান ছিলেন সেই উন্মাদনার অমূল্য নিদর্শন, যিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতি তার অনন্য প্রেম ও নিবেদন দিয়ে পুরো শহরকে প্রভাবিত করেছেন। ‘আতা ভাই’ নামেই পরিচিত এই প্রবীণ সমর্থক গতকাল রাত ঢাকার টিকাটুলীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন ৮০ বছরের ঊর্ধ্ব।
আতাউরের ফুটবল ভ্রমণ শুরু হয় ১৯৬২ সালে, যখন তিনি কিশোর বয়সে প্রথমবার ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পা রাখেন। সেই প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা তাকে মোহামেডানের প্রতি আজীবন অনুরাগী করে তোলে। ষাটের দশক থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রায় প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতা ও অসুস্থতা কখনোই তাঁর মানসিক উৎসাহকে থামাতে পারেনি। তিনি নিজের শরীরকে অবহেলা করেও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতেন, মাঠের ধুলো, খেলোয়াড়দের চিৎকার এবং গোলের উল্লাসই ছিল তাঁর জীবনের সেরা আনন্দ।
অবশ্য, তাঁর সমর্থন শুধুমাত্র মোহামেডানের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। আবাহনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁকে আরও উজ্জীবিত করত। মাঠের বাইরে থেকেও তিনি যেন সাদা-কালোর এক প্রহরী, ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে ক্লাবের পাশে থাকতেন।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | আতাউর রহমান |
| ডাকনাম | আতা ভাই |
| বয়স | ৮০+ |
| প্রথম গ্যালারি অভিজ্ঞতা | ১৯৬২, ঢাকা স্টেডিয়াম |
| সমর্থনকাল | ১৯৬২–২০১৭ |
| প্রিয় ক্লাব | মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব |
| উল্লেখযোগ্য | প্রায় প্রতিটি মোহামেডান-ম্যাচে উপস্থিতি, আবাহনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্রিয় সমর্থক |
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “আতার পকেটে সর্বদা একটি চিরকুট থাকত, তাতে লেখা ছিল—‘আমি মোহামেডানের সমর্থক’। তিনি এটিকেই নিজের ‘পেশা’ বলতেন। তাঁর চাহিদা ছিল একটাই—ক্লাবের একটি পতাকা এবং জার্সি। এমন নিখাদ ভক্ত পৃথিবীতে বিরল।”
আজ বিকেলে টিকাটুলী জামে মসজিদে আতার জানাজায় ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহে মোহামেডানের পতাকা জড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ফুটবলের প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং গ্যালারিতে মাতামাতি করা চিৎকার আজও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী।
আতা ভাই চলে গেলেও ঢাকার মাঠে তাঁর উচ্ছ্বাস, সাদা-কালো পতাকার পাশে দেওয়া চিৎকার, এবং এক অনন্য সমর্থকের গল্প চিরকাল অনুরণিত থাকবে। তিনি প্রমাণ করেছেন, ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি কিছু মানুষের জন্য জীবনধারা ও আত্মার উৎসবও হতে পারে।