খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, এই দুই আসনের ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার যে সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা একেবারেই সঠিক নয়। তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো একটি বিশেষ প্রেস নোটে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত এই বিভ্রান্তিকর সংবাদটি যেন অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার বা প্রচার বন্ধ করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতাকে কেন্দ্র করে। গত ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা সংক্রান্ত একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, যেখানে আগের সীমানা পুনর্বহালের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবং এক প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ইসির ওই বিজ্ঞপ্তির সংশ্লিষ্ট অংশ স্থগিত করার আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশটি প্রদান করেন।
নির্বাচনী কার্যক্রম ও আইনি প্রেক্ষাপটের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও সর্বশেষ তথ্য |
|---|---|
| বিতর্কের বিষয় | সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা। |
| ইসির অবস্থান | নির্বাচন স্থগিত হয়নি, পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী চলবে। |
| আদালতের আদেশ | গত ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির সংশ্লিষ্ট অংশ স্থগিত। |
| বিভ্রান্তির উৎস | নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা বা প্রচার। |
| কমিশনের নির্দেশনা | বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং তা প্রত্যাহার। |
| ভোটের ভবিষ্যৎ | উচ্চ আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা সাপেক্ষে কার্যক্রম চলমান। |
শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। কিছু গণমাধ্যম দাবি করে যে, তিনি এই দুই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলেছেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, আদালত মূলত সীমানা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থগিত করেছেন, পুরো নির্বাচন নয়। কমিশনারের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ‘ভোট স্থগিত’ শিরোনামে খবর প্রচার করায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে বলেছে যে, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রতিটি পদক্ষেপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সীমানা সংক্রান্ত আইনি লড়াই আদালতের নিজস্ব গতিতে চললেও, তাতে সাধারণ নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার ও প্রার্থীদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই এবং তারা যেন কেবল দাপ্তরিক বা যাচাইকৃত সংবাদের ওপর আস্থা রাখেন। কমিশনের এই ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে পাবনা অঞ্চলের নির্বাচনী এলাকায় বিরাজমান উত্তেজনা ও সংশয় প্রশমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।