খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত করেছে যে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাতীয় ক্রিকেট দল নির্ধারিত সময়ে ভারতের সফরে যাত্রা করবে না। আসন্ন আইসিসি ম্যানস টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দল ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো বিকল্প স্থানে আয়োজনের ব্যবস্থা করা হোক। বর্তমানে আইসিসি এই অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাব ফেলেছে এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল হলেও বহুবার ঘটেছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সহ অনেক ক্রিকেট শক্তিধর দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির নজির রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতীয় দল অংশ নিতে পারেনি। সেই সময় ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। এ ছাড়াও, ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ে সফরে যেতে পারেনি, আর নিউজিল্যান্ড কেনিয়ার ম্যাচ থেকে সরে এসেছিল নিরাপত্তাজনিত কারণে।
বহুজাতিক টুর্নামেন্টেও নিরাপত্তাজনিত সংকট দেখা দিয়েছে। ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ, যা ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর পেছনে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক বোমা বিস্ফোরণ দায়ী ছিল।
নিচের টেবিলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তুলে ধরা হলো, যেখানে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে ম্যাচের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল:
| বছর | টুর্নামেন্ট | আয়োজনকারী দেশ | প্রভাবিত দল | বিকল্প ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| 2003 | ক্রিকেট বিশ্বকাপ | জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা | ইংল্যান্ড (জিম্বাবুয়ে), নিউজিল্যান্ড (কেনিয়া) | ম্যাচ পুনঃনির্ধারণ হয়নি |
| 1996 | ক্রিকেট বিশ্বকাপ | শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারত | অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ (শ্রীলঙ্কা) | ম্যাচ বাতিল |
| 2009 | আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ | জিম্বাবুয়ে | জিম্বাবুয়ে | স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে |
| 2025 | চ্যাম্পিয়নস ট্রফি | পাকিস্তান | ভারত | ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়েছে |
ইতিহাস প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রায়ই ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতার যথাযথতা বজায় রাখা এ ধরনের সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপও ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নেওয়া হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।
আইসিসি যখন বিসিবি’র অনুরোধ পর্যালোচনা করছে, ক্রিকেট ভক্তরা বিশ্বজুড়ে সূচনার সম্ভাব্য পরিবর্তনকে মনোযোগ সহকারে অনুসরণ করবেন। এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ক্রিকেটের শাসক সংস্থাগুলোর দ্বৈত দায়িত্ব রয়েছে: প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।