খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সালাদ, নুডলস বা চাইনিজ খাবারে ক্যাপসিকাম এখন বাঙালির খাদ্যতালিকায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে বিদেশি ও দেশীয় উভয় ধরনের ক্যাপসিকামের বিক্রি বেড়েছে। যদিও এটি দেশীয় কোনো ফসল নয়, তবু গত চার বছরে উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপযুক্ত আবহাওয়া ও চাহিদার মিলনে ক্যাপসিকামের উৎপাদন ও বিক্রয় দ্রুত বাড়ছে। দেশে সর্বোচ্চ উৎপাদন হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলায়।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, চরের জমিতে পলি জমে থাকায় ক্যাপসিকামের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। কৃষকেরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে উৎপাদন বাড়াচ্ছেন এবং ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় ভোলায় উৎপাদন সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের ক্যাপসিকাম উৎপাদন গত চার বছরে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
| অর্থবছর | উৎপাদন (টন) | উৎপাদন এলাকা (একর) | প্রতি একরের উৎপাদন (কেজি) |
|---|---|---|---|
| ২০২১-২২ | ১৫১ | – | – |
| ২০২৩-২৪ | ৩২৪ | ১১১ | ২,৯২২ |
| ২০২৪-২৫ | ৪৭৫ | ১১৯ | ৪,০০৬ |
কৃষকরা উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিক্রিতে ঝামেলা কম হওয়ায় আগ্রহী। ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রি প্রায় তিনগুণ বেশি। ঢাকার কারওয়ান বাজারে সরাসরি বিক্রির সুবাদে দেশের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও সহজে পণ্য ক্রয় করছেন।
বাজারে ক্যাপসিকামের দামও উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যে পরিবর্তিত হয়েছে। খামারবাড়ি এলাকায় বিক্রেতা সুধীর চন্দ্র দে জানান, সবুজ ক্যাপসিকামের দাম প্রতি কেজি ২২০ টাকা, আর হলুদ বা লাল রঙের উন্নত মানের ক্যাপসিকামের দাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকা।
দেশে প্রায় ৫০ ধরনের মসলা ব্যবহৃত হয়, যার অধিকাংশই আমদানি নির্ভর। সরকার ২০২২ সালে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪টি মসলার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের ক্যাপসিকাম চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ক্যাপসিকাম দক্ষিণ আমেরিকার (মেক্সিকো–পেরু) উদ্ভাবিত। এটি ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও খনিজের সমৃদ্ধ উৎস। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যেই স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী তিনটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ভোলার চরে ক্যাপসিকাম চাষ এখন শুধু কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে না, বরং দেশের খাদ্যশৃঙ্খল ও স্থানীয় মসলার স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।