খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের বীমা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্কার ঘোষণা করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (IDRA)। ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে IDRA জানিয়েছে, দেশের ৪৫টি অ-জীবন (Non-Life) বীমা কোম্পানি আর কোনো এজেন্ট ব্যবহার করতে পারবে না প্রিমিয়াম সংগ্রহের জন্য এবং এজেন্টদের কমিশন প্রদানের প্রথা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বীমা খাতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কার হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
IDRA জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশন-নির্ভর ব্যবসায়িক সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে উন্ডাররাইটিং শৃঙ্খলা ও পলিসিধারকের সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। নতুন নীতি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে উন্ডাররাইটিং মান, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং দাবির সময়মতো নিষ্পত্তি উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
শিল্প ও বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত কমিশন প্রদানের ফলে অ-জীবন বীমা খাতের দাবির নিষ্পত্তির হার (Claim Settlement Ratio) খুবই কম। কোম্পানিগুলো বাজার দখলের জন্য প্রিমিয়াম বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উচ্চ কমিশন দেয়, যা সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও ন্যায্য প্রিমিয়াম নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে দাবির বিলম্ব, মূল্য নির্ধারণে ত্রুটি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
IDRA’র বার্ষিক প্রতিবেদনের (২০২৩-২৪) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে অ-জীবন বীমা খাত মোট প্রিমিয়ামের ৫৯.৮০% দখল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিপরীত। ২০২৩ সালে জীবন বীমা খাত প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ১২৩ বিলিয়ন টাকা ($1.1 বিলিয়ন), যেখানে অ-জীবন খাতের প্রিমিয়াম ছিল ৬০ বিলিয়ন টাকা। এ বছর অ-জীবন বীমা খাতের দাবির নিষ্পত্তি মাত্র ৩৫.৫৪%।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কমিশন বাতিলের ফলে বীমা কোম্পানিগুলো উন্ডাররাইটিং মান উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্ত করা এবং দাবির দ্রুত নিষ্পত্তিতে মনোযোগ দেবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
নিচের টেবিলে ২০২৩ সালের বাংলাদেশের বীমা খাতের প্রধান তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | জীবন বীমা | অ-জীবন বীমা |
|---|---|---|
| প্রিমিয়াম সংগ্রহ | ১২৩ বিলিয়ন টাকা | ৬০ বিলিয়ন টাকা |
| বাজারের অংশ | ৬৭.২% | ৩২.৮% |
| দাবির নিষ্পত্তির হার | ৮১.৫% | ৩৫.৫৪% |
| এজেন্ট কমিশন অবস্থা | অনুমোদিত | বাতিল (জানুয়ারি ২০২৬ থেকে) |
এই নতুন নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ বাংলাদেশের অ-জীবন বীমা খাতকে টেকসই, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ ব্যবস্থার দিকে এগোতে সহায়ক হবে। কোম্পানি ও পলিসিধারক উভয়ের জন্যই এটি স্থিতিশীলতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, যা বীমা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।