খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩–২ গোলে পরাজিত করে রেকর্ড ১৬তম শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। উত্তেজনাপূর্ণ এই জয়ে শুধু ট্রফিই নয়, মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কারও নিশ্চিত করেছে কাতালান ক্লাবটি। উল্লেখযোগ্যভাবে, টানা দ্বিতীয় মৌসুমে সুপার কাপের ফাইনালে রিয়ালকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল বার্সা। একই সঙ্গে এটি নতুন মৌসুমে তাদের প্রথম শিরোপা, যা দলটির আত্মবিশ্বাস ও আর্থিক স্বস্তি—দুইই বাড়িয়েছে।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) চলতি মৌসুমে সুপার কাপের আর্থিক কাঠামো আরও সম্প্রসারিত করেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে যেখানে মোট পুরস্কার তহবিল ছিল প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ইউরো, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ ইউরোতে। এই অর্থ বণ্টন করা হয় ক্লাবগুলোর ঐতিহাসিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক অর্জন, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং নির্ধারিত বোনাস কাঠামোর ভিত্তিতে।
প্রথম ধাপে চার অংশগ্রহণকারী দলকে ভ্রমণ ও অংশগ্রহণ ভাতা হিসেবে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ইউরো দেওয়া হয়েছে। গত মৌসুমে এই অঙ্ক ছিল ১ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার ইউরো। যদিও এবার বণ্টন কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, বাস্তবে বড় অংশ আবারও রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দখলেই গেছে—যা তাদের বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও দর্শক আকর্ষণের প্রতিফলন।
এবার পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের জন্য রাখা হয়েছে ৫০ লাখ ইউরো, যা গত মৌসুমে ছিল ৪০ লাখ। আগের আসরে কেবল চ্যাম্পিয়ন দলই বড় অঙ্কের সুবিধা পেত, কিন্তু এবার রানার্সআপ ও সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দলগুলোকেও নির্দিষ্ট অঙ্ক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে।
নিচের টেবিলে চলতি মৌসুমের সুপার কাপে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার বণ্টনের চিত্র তুলে ধরা হলো—
| দল | অর্জন | পুরস্কার (ইউরো) |
|---|---|---|
| বার্সেলোনা | চ্যাম্পিয়ন | ২০ লাখ |
| রিয়াল মাদ্রিদ | রানার্সআপ | ১৪ লাখ |
| আতলেতিকো মাদ্রিদ | সেমিফাইনালিস্ট | ৮ লাখ |
| অ্যাথলেটিক ক্লাব | সেমিফাইনালিস্ট | ৮ লাখ |
সুপার কাপ আয়োজন থেকে আরএফইএফের মোট আয় প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ ইউরো। এর বড় অংশ আসে স্পনসরশিপ, সম্প্রচারস্বত্ব এবং সৌদি আরবের সঙ্গে বার্ষিক প্রায় ৪ কোটি ইউরোর চুক্তি থেকে। এই আয়ের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো বরাদ্দ রাখা হয়েছে ফুটবলের উন্নয়ন খাতে, বিশেষ করে তৃণমূল ও যুব ফুটবল প্রসারে।
সব মিলিয়ে, রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা যেমন ক্রীড়াগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে, তেমনি আর্থিক দিক থেকেও সুপার কাপ তাদের জন্য হয়ে উঠেছে অত্যন্ত লাভজনক এক মঞ্চ।