খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ২৬ বছর বয়সী এরফান সুলতানিকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হতে পারে।
এরফান সুলতানি গত সপ্তাহে কারাজ শহরে চলমান বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহারেবেহ’ অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় ও স্থান ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিচার প্রক্রিয়ার সময় তাকে কোনো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ এই পদক্ষেপকে আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন, “ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর গণ-মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যা ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সাধারণ মানুষকে রক্ষার দায়িত্বে এগিয়ে আসতে হবে।”
অপর একটি সংগঠন ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান এরফান সুলতানির জীবন বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে সমর্থন চেয়ে বলেছে, তার একমাত্র অপরাধ ছিল স্বাধীনতার ডাক দেওয়া।
ইরানের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান সম্ভবত এর আগে কখনও এমন স্বাধীনতার সম্ভাবনা দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।” হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
তবে ট্রাম্পের হুমকির সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের কিছু সদস্য। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল বলেছেন, “অন্য দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। এমন আক্রমণ সাধারণ জনগণকে বর্তমান সরকারের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
নীচের টেবিলে ঘটনাসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত | এরফান সুলতানি, ২৬ বছর |
| অভিযোগ | খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ (মোহারেবেহ) |
| গ্রেফতার স্থান | কারাজ শহর |
| মৃত্যুদণ্ডের তারিখ | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ |
| আইনজীবীর সুযোগ | প্রদান করা হয়নি |
| মানবাধিকার সংস্থা প্রতিক্রিয়া | গভীর উদ্বেগ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক রক্ষার আহ্বান |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি; কংগ্রেসের সমালোচনা |
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দমন-পীড়নের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্দিষ্ট এ ধরনের কার্যক্রম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নতুন নজির স্থাপন করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।