খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলার এক প্রখ্যাত একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ও লোকসংগীত শিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী আজ শায়িত হয়েছেন। ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
তবলাশিল্পী পল্লব স্যানাল প্রথম আলোকে জানান, রাত ২টায় তাঁর মরদেহ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। একমাত্র মেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পরই মলয় কুমার গাঙ্গুলীর শেষকৃত্যের আয়োজন চূড়ান্ত করা হবে।
মলয় কুমার গাঙ্গুলী একাত্তরের সময় কলকাতার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-এ যোগ দেন। তিনি এককভাবে কণ্ঠ দেন এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ও সুরে ‘ওরে ও বাঙালি, আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ গানটিতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই গানটি বাঙালি জাতির চেতনা জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর কণ্ঠে স্বাধীনতার লড়াই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
| সিনেমা / গান | মন্তব্য / ঘটনা |
|---|---|
| পুত্রবধূ – “গুরু উপায় বলো না” | গানের সময় প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন; শ্রোতামহলে ব্যাপক প্রশংসিত |
| আমার মনতো বসে না | বিভিন্ন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান, যা বাংলা সিনেমার দর্শকপ্রিয় তালিকায় ছিল |
| যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই | নিজেই সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন; পরবর্তী সময়ে সাবিনা ইয়াসমীনও পরিবেশন করেছেন |
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জন্ম ১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে। স্বাধীনতার সময়ে তিনি শুধু সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে নয়, বরং দেশপ্রেমিক কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তার নাম অমর করে রাখেন। তিনি শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিকভাবে সুসংগঠিত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর গানে স্বাধীনতা, দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা তিমির নন্দী তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, “আমরা দিনে দিনে খুব একা হয়ে যাচ্ছি। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। যেখানে আছেন, ভালো থাকুন, মলয়দা। দেশের জন্য আপনার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর অবদান শুধুমাত্র সঙ্গীত বা চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর গান ও সুর স্বাধীনতার ইতিহাসে স্মরণীয় অবদান রেখে গেছে। তিনি একসময় দেশের সাংস্কৃতিক চেতনার অমলিন দীপ্তি ছিলেন। তার জীবন ও সঙ্গীতের গল্প আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে চিরকাল চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।