খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম চালানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার ১০০ কোটি) তেল বিক্রি হয়েছে। তবে ক্রেতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আমেরিকার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, “ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।”
রজার্স আরও বলেন, “মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধকে মাদক-সন্ত্রাসী ও বিদেশি শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করছেন।”
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও তেল বিক্রি হবে। প্রথম বিক্রির অর্থের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে কাতারের একটি ব্যাংকও অন্তর্ভুক্ত। কাতারের উদার মুদ্রানীতি এই অর্থের নিরাপদ এবং দ্রুতগতিতে স্থানান্তর সহজ করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল “জব্দ” করে বিক্রির পরিকল্পনা করছে। তেলের অর্থ সম্পূর্ণভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কোনো দুর্নীতিবাজ বা শাসকগোষ্ঠী এর ফায়দা নিতে পারবে না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেনেজুয়েলার রুগ্ন জ্বালানি খাতের পুনর্নির্মাণে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কত বিনিয়োগ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন তেল খাতের নেতারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক। এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, “ভেনেজুয়েলার তেল খাত আপাতত বিনিয়োগযোগ্য নয়। আগে আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বিনিয়োগের বিনিময়ে আমরা কী পাব তা স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক।” অন্যান্য কর্মকর্তারাও লাতিন আমেরিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সত্ত্বেও কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও লাখো-কোটি ডলারের বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রথম বিক্রির মূল্য | ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (~৬,১০০ কোটি টাকা) |
| ক্রেতা | অজানা |
| অর্থের হেফাজত | যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট |
| জব্দ তেলের পরিমাণ | ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল |
| সম্ভাব্য বিনিয়োগ | ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভবিষ্যতে) |
| হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য | জনগণের কল্যাণ, দুর্নীতি রোধ |
| আন্তর্জাতিক সহযোগী | কাতারের ব্যাংক, উদার মুদ্রানীতি |