খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ৯টার দিকে তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে। পরে আহত নেতাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে এবং তালমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত আলমগীরের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি রাতের দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে আসলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা এবং নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তাকে পথরোধ করেন। তারা আলমগীরকে বলেন, “তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।” আলমগীর জানান, তিনি ভোট দেবেন না, কারণ তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের একদল হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলমগীরকে পিটিয়ে জখম করে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ দাবি করেন, হামলা রাজনৈতিক কারণে হয়নি, বরং আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর রাতেই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত আলমগীরকে দেখতে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থীসহ আহত আলমগীরের পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত সংক্ষেপে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আহত ব্যক্তির নাম | আলমগীর শেখ |
| বয়স | ৩৬ বছর |
| পিতার নাম | হালিম শেখ |
| গ্রাম | কদমতলী, তালমা ইউনিয়ন |
| দায়িত্ব | সাত নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি |
| হামলাকারী | রাশেদ মোল্লা, মিলন শেখ (প্রাথমিকভাবে শনাক্ত) |
| হামলার সময় | বুধবার রাত ৯টা |
| হামলার স্থান | কদমতলী সেতু, তালমা ইউনিয়ন |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| ঘটনা বিষয়ে মত | আলমগীর: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বিএনপি: জমিজমা বিরোধ |
এ ঘটনায় ফরিদপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়ছে। পুলিশ অভিযোগ যাচাইয়ের পাশাপাশি হামলাকারীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।