খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কেন্দ্রীয় ভবনে আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে চলমান শুনানির সময় ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা আইনজীবী ও কর্মকর্তারা পরিস্থিতি “উত্তপ্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ সময় কমিশনের সভাকক্ষে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলছিল। শুনানির প্রাথমিক পর্যায়ে আইনজীবীদের ব্যাখ্যা শেষে ইসি আধাঘণ্টার জন্য শুনানি স্থগিত করেন। আইনজীবীদের কক্ষ ত্যাগের পর অডিটোরিয়ামে উপস্থিত প্রার্থীরা ও সমর্থকরা একে অপরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
বিস্তারিত পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| প্রার্থী | পদ | সংঘর্ষের কারণ | মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া | নিরাপত্তা ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| আব্দুল আউয়াল মিন্টু | ফেনী-৩, বিএনপি | বিরোধী পক্ষের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ | তাবিথ আউয়াল তার পিতাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন | আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনে |
| হাসনাত আব্দুল্লাহ | কুমিল্লা-৪, এনসিপি | ‘অশ্রাব্য ভাষা’ ও বল প্রয়োগের চেষ্টা | ইসির কাছে রুলিং দাবি করেন | কমিশন ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মতো উল্লেখ |
বাকবিতণ্ডার সময় আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিরোধী পক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 이에 হাসনাত আব্দুল্লাহ আপত্তি জানালে দু’জনের মধ্যে উভয়পক্ষের উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। একপর্যায় তাবিথ আউয়াল, মিন্টুর পুত্র, তাকে ইসি কক্ষে থেকে সরিয়ে নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ পরে সাংবাদিকদের জানান, “যারা রাজনৈতিক এলিটিসিজম প্রদর্শন করতে আসেন, তারা ভোট চাইবার আগে নিজেদের আচরণ ঠিক রাখুক। ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালিগালাজ করা কোনো প্রার্থী সমর্থনযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “বিদেশে অর্থ পাচারকারী প্রার্থীরা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক আঁতাত করে। রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যবসা করা ও সেফ এক্সিট নেওয়া প্রার্থীদের চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে স্থান নেই।”
তিনি এই ঘটনাকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাসনাত আরও বলেন, “ইসি হাদির ঘটনার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া যথাযথ নয়। অন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত হবে তা ভাবার বিষয়।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করেছে। কমিশন জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে শুনানি চলাকালীন উত্তেজনা রোধে অতিরিক্ত প্রহরী ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে।