খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাবাতের স্টেডিয়াম মুখরিত ছিল উত্তেজনা, নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচে চরম নাটকীয়তার পর মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন হল সেনেগাল। ৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময় গোলশূন্য সমতার পর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে একমাত্র গোল করে দলকে শিরোপার স্বাদ এনে দেন পাপ গেয়ি। এই জয়ের ফলে সেনেগাল আফ্রিকার শীর্ষ সম্মান দ্বিতীয়বার অর্জন করল।
মরক্কো ১৯৭৬ সালের পর আবার ট্রফি জয় থেকে বঞ্চিত হলো। ২০০৪ সালের ফাইনালেও তিউনিসিয়ার কাছে হারার ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় সম্মান হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। এই দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে, আশরাফ হাকিমি ও তার সতীর্থরা হতাশার ঢেউয়ে ভাসলেন।
| সময় (মিনিট) | ঘটনা | দল/খেলোয়াড় |
|---|---|---|
| ৫ মিনিট | প্রথম সুযোগ, পাপ গেয়ি জালে পাঠাতে ব্যর্থ | সেনেগাল |
| ৩৭ মিনিট | একাই শট, ইয়াসিন বোনো রক্ষা | সেনেগাল |
| ৪১ মিনিট | মরক্কোর সুপ্রচেষ্টা, নায়েফ গোল করতে ব্যর্থ | মরক্কো |
| ৯৮ মিনিট | পেনাল্টি পেনাল্টিতে ব্যর্থ ব্রাহিম দিয়াজ | মরক্কো |
| অতিরিক্ত সময় ৪ মিনিট | পাপ গেয়ির গোল, ফাইনাল চূড়ান্ত | সেনেগাল |
ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত আসে ৯৮ মিনিটে, যখন মরক্কো পেনাল্টি পায়। রেফারি জ্যাঁ জাক নডালা ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখে এল হাজি মালিক দিয়ুফকে ফাউল করার জন্য দায়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু গোলদাতা ব্রাহিম দিয়াজ ‘পানেনকা’ শটে ব্যর্থ হন এবং গোলকিপার এদুয়ার মেন্দি সহজে রক্ষা করেন। এই ঘটনার প্রভাবে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বলেন; তবে মানে হস্তক্ষেপে পুরো দল পুনরায় মাঠে ফিরেন।
ম্যাচের সেরা মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ে, যখন পাপ গেয়ি মিডফিল্ড থেকে দুর্দান্ত শট মারেন এবং সেনেগালকে বিজয় এনে দেন। ফাইনাল শেষে ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’ এক চূড়ান্ত নাটকীয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পান।
ফাইনালের নাটক, উত্তেজনা, বিতর্ক এবং অনিশ্চয়তার এই মিশ্রণে আফ্রিকার ফুটবল আবারও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। মরক্কো প্রতিযোগিতার শুরু থেকে চমক দেখালেও শেষ পর্যন্ত জয়ের স্বাদ পেল না, আর সেনেগাল আবারো মহাদেশের শীর্ষে নিজেদের নাম লেখাল।