খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই ২০২১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয় শিক্ষার্থী হত্যার মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার পূর্বনির্ধারিত তারিখ স্থগিত ঘোষণা করেন। নতুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৬ জানুয়ারি।
এই মামলাটি দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধুমাত্র ৬ শিক্ষার্থীর হত্যার বিচার নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিফলন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আট পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রসিকিউশনের আশা, অভিযুক্তরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন। মামলার বিবরণ ও রায়ের পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| মামলার নাম | চানখারপুল ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলা |
| অপরাধের ধরন | মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ |
| অভিযুক্ত সংখ্যা | ৮ পুলিশ সদস্য, সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ |
| আসল রায় ঘোষণা তারিখ | ২০ জানুয়ারি ২০২৬ (স্থগিত) |
| নতুন রায় ঘোষণার তারিখ | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ |
| বিচারক | মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার (প্রধান), ২ অন্যান্য সদস্য |
| মামলা সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য | জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় |
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর আগে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী হুম্মাম কাদের চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি জেল ও সরকারি স্থাপনায় গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় বিস্তারিত বর্ণনা দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু বিচার করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, একই ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারায়ণগঞ্জের ১০ জন হত্যার মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই ঘটনাগুলো দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামলা ও রায়ের ধারাবাহিকতা দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পরবর্তী রায় ঘোষণার পর, জনগণ ও নিহত পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ জানুয়ারির রায় ঘোষণার দিন আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণভাবে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।