খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সম্প্রতি এক বিয়ের ঘটনা জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর–কনের নতুন জীবন শুরু হওয়া মাত্রই, বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পরই নাটকীয় মোড় নেয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বর রায়হান কবির দাবি করেন, বিয়ের আগে যাকে দেখা হয়েছিল, বাসরঘরে থাকা নববধূ সেই নারী নন। ‘কনে বদল’-এর এই অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা চলে এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ে ও পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের মধ্যে বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বর পক্ষ কনে বদলের অভিযোগ তোলে। একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোন সমাধান হয়নি।
পরবর্তী সময় উভয় পক্ষ পৃথকভাবে মামলা দায়ের করে। কনের বাবা ২৭ আগস্ট বর রায়হান ও তার দুলাভাই মানিক হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পাল্টা জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট নিম্নরূপ:
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১ আগস্ট ২০২৫ | রায়হান কবির ও জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন |
| ২ আগস্ট ২০২৫ | কনেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয় |
| ২৭ আগস্ট ২০২৫ | কনের বাবা বর ও দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের |
| ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের |
| ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | রায়হান কবিরের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ |
ঘটনার বিশদ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বরের মামা বাদল জানিয়েছেন, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে শিবদিঘীর একটি চায়ের দোকানে মেয়েটিকে দেখা হয়। মেয়েকে পছন্দ হলে তা জানানো হয় এবং পরে মেয়েপক্ষ দ্রুত বিয়ের প্রস্তাব দেয়, কনে নতুন করে দেখানো হয়নি। বিয়ের রাতে অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিষয়টি বোঝা যায়নি। বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর রায়হান নিশ্চিত হন যে, পূর্বে দেখানো নারীটি নববধূ নন।
কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেজো মেয়েকে ছেলেপক্ষ সঠিকভাবে দেখেছে। বিয়েতে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে জানান, বিয়ের পরদিন ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে, যা না মেনে দেওয়া হলে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটক মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, মেয়েকে তার বাবার বাড়িতেই দেখানো হয়েছিল।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, মামলার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। উভয় পক্ষের অভিযোগ বিবেচনায় আদালত বিষয়টি বিচারাধীন রেখেছেন।