খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২০১৭ সালের ভয়াবহ এক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের নাম ও বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | পিতা/মাতার নাম | এলাকা | অপরাধের ধরন | দণ্ড | জরিমানা | অনাদায়ে কারাদণ্ড |
|---|---|---|---|---|---|---|
| সজল বর্মন | নারায়ণ বর্মন | দুপ্তারা, আড়াইহাজার | অপহরণ ও হত্যা | যাবজ্জীবন | ৫০,০০০ টাকা | ২ বছর |
| সঞ্জিত বর্মন | পাগল চান বর্মন | দুপ্তারা, আড়াইহাজার | অপহরণ ও হত্যা | যাবজ্জীবন | ৫০,০০০ টাকা | ২ বছর |
| রুমা | আয়নাল হক | নন্দলালপুর, ফতুল্লা | অপহরণ ও হত্যা | যাবজ্জীবন | ৫০,০০০ টাকা | ২ বছর |
| রুমা | কাদের | নন্দলালপুর, ফতুল্লা | অপহরণ ও হত্যা | যাবজ্জীবন | ৫০,০০০ টাকা | ২ বছর |
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকার ফনি চন্দ্র দাসের ছেলে ভজন চন্দ্র দাস (২৩) কে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে পরিবার থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ পরিশোধের পরও, ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভজন চন্দ্র দাসকে হত্যা করে এবং মরদেহ গোপন করতে মাটির নিচে পুঁতে রাখে।
ঘটনার পর পুলিশ তৎপরভাবে তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। একই সময়ে ভজন চন্দ্র দাসের পিতা ফনি চন্দ্র দাস আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই কঠোর রায় ঘোষণা করে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় অপহরণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ জনগণও এই রায়কে ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে অপরাধ হ্রাসে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনার সামাজিক প্রভাবও যথেষ্ট গুরুতর ছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দুঃখ ও মানসিক চাপ অনেক দিন ধরে এলাকায় একটি উত্তেজনা তৈরি করেছিল। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের তল্লাশির পর আসামিদের শনাক্ত হওয়া এবং আদালতের রায় ঘোষণায় পরিবার ও সমাজে কিছুটা শিথিলতা এসেছে।
এছাড়া, এই রায় নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বকেও ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন কঠোর রায় ভবিষ্যতে শিশু, কিশোর ও যুবকদের অপহরণসহ যেকোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের জন্য জোরালো বার্তা হিসেবে কাজ করবে।