খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
কুমিল্লা জেলা পুলিশ একটি তৎপর অভিযানে কুমিল্লা জেলা আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) কে আই এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুম (৫১) এবং আরও একজন যুবককে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং মোট ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযানের পেছনে যুবক আরিফুল ইসলামের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে টমছমব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামের যুবককে পাঁচটি গুলি ও একটি ছুরিসহ আটক করা হয়। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানায় যে, কুমিল্লা আদালতের এজিপি মাসুদুল হকের বাসায় আরও অস্ত্র আছে। তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ডরোব থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচটি গুলি উদ্ধার করে। উভয় আটককৃতকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মাসুদুল হক জামায়াতপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। আরিফুল ইসলাম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দুইজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের অভিযান এবং তথ্যের ভিত্তিতে এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।”
নিম্নে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
| আটককৃতের নাম | বয়স | ঠিকানা | উদ্ধারকৃত সামগ্রী |
|---|---|---|---|
| আরিফুল ইসলাম | ৩৬ | ধর্মপুর, কুমিল্লা | ৫টি গুলি, ১টি ছুরি |
| কে আই এম মাসুদুল হক (এজিপি) | ৫১ | টমছমব্রিজ, কুমিল্লা | ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ৫টি গুলি |
কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি কাইমুল হক জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি জানালে তিনি তা নোটিশ হিসেবে পাবেন। এরপর সরকারি কৌঁসুলির সঙ্গে পরামর্শ করে আইন মন্ত্রণালয় এজিপির দায়িত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান পরবর্তীতে আরও তৎপরভাবে চালানো হবে যাতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।