খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল আউয়াল মিন্টু। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) তিনি তাঁর নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে প্রচারণার আনন্দ ছাপিয়ে এক গম্ভীর সতর্কবার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। ডিজিটাল জালিয়াতি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনি প্রচারকালে আবদুল আউয়াল মিন্টু অভিযোগ করেন যে, একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) অনুলিপি এবং বিকাশ নম্বরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। তিনি একে একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, “ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য কোনো অপরিচিত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসা ব্যক্তির কাছে দেওয়া যাবে না। এটি ভোটারদের অধিকার হরণ এবং আর্থিক ক্ষতির একটি নীল নকশা হতে পারে। জনগণের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এই অপতৎপরতা যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিহত করতে হবে।”
প্রচারণার প্রথম দিনের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ও বার্তাসমূহ:
| কর্মসূচির বিবরণ | অবস্থান ও বিবরণ | প্রধান বার্তা |
| সূচনা পর্ব | দাগনভূঞা উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন। | ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। |
| গণসংযোগ | স্থানীয় বাজার ও জনবহুল এলাকা। | ভোটাধিকার রক্ষা করাকে পবিত্র সাংবিধানিক দায়িত্ব বলা। |
| সতর্কবার্তা | বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রতিহত করা। | বিকাশ ও এনআইডি তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা। |
| রাজনৈতিক অঙ্গীকার | পথসভা ও নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময়। | ধানের শীষকে জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা। |
আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, ভোটাধিকার রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধানের শীষ কেবল একটি নির্বাচনি প্রতীক নয়, এটি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের হাতিয়ার। তাঁর প্রচারণার সময় স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক থেকে শুরু করে তরুণ ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি এক নিবিড় সংযোগ গড়ে তোলেন।
প্রচারণার প্রথম দিনে আবদুল আউয়াল মিন্টুর পাশে ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন আকবরসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শত শত নেতাকর্মী তাঁর মিছিলে অংশ নেন। দলীয় কর্মীরা জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আবদুল আউয়াল মিন্টুর উপস্থিতি তাঁদের মাঝে নতুন করে সাহসের সঞ্চার করেছে। গণসংযোগ চলাকালে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা মিন্টুর কাছে তুলে ধরেন এবং তিনি পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রথম দিনের প্রচারণা মূলত একটি ‘সতর্কতামূলক প্রচারণা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে যেমন তিনি দলীয় আদর্শ প্রচার করছেন, অন্যদিকে ভোটারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের পথ সুগম করতে চাইছেন। নির্বাচনি মাঠে এই ধরণের ডিজিটাল সচেতনতা ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।