খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি ও জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে কঠোর সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
নাহিদ ইসলাম বিএনপির ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “বিএনপি যে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছে, তার প্রকৃত সুফলভোগী কারা হবে? অতীতে আমরা দেখেছি, সরকারি সুবিধা পেতে হলে সাধারণ মানুষকে ঘুস দিতে হয়। এখন প্রশ্ন জাগে, ২ হাজার টাকার কার্ড পাওয়ার জন্য কি দরিদ্র মানুষকে ১ হাজার টাকা ঘুস দিতে হবে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একদিকে দলগুলো জনকল্যাণের কথা বলছে, অন্যদিকে নির্বাচনে বড় বড় ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছে, যারা ক্ষমতায় গিয়ে পুনরায় লুণ্ঠন ও জনসম্পদ আত্মসাতের উৎসবে মেতে উঠবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বস্তিবাসী মূলত আকাশচুম্বী দালান বা ফ্ল্যাট চায় না; তারা চায় একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন। সেই নিরাপত্তা বস্তিতে থেকেও নিশ্চিত করা সম্ভব যদি সেখানে রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে ফ্ল্যাটের প্রলোভন দিলেও ভোটের পর তারা বস্তি উচ্ছেদে লিপ্ত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন এসব ‘মিথ্যা আশ্বাস’ বুঝতে পেরেছে এবং তারা কোনো সাময়িক মোহের বশবর্তী না হয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ভোট দেবে।
নাহিদ ইসলামের ভাষণে আলোচিত প্রধান চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনাসমূহ:
| আলোচনার বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি ও সমালোচনা | প্রস্তাবিত সমাধান ও অবস্থান |
| ফ্যামিলি কার্ড | কার্ড পেতে ঘুস ও দলীয়করণের আশঙ্কা। | প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন ও সরাসরি সুবিধা প্রদান। |
| মনোনয়ন বাণিজ্য | ঋণখেলাপি ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের মনোনয়ন প্রদান। | সৎ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া। |
| আবাসন প্রতিশ্রুতি | বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাটের নামে উচ্ছেদের ভীতি। | বস্তিতে নাগরিক সেবা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। |
| নির্বাচন কমিশন | স্বচ্ছতার অভাব ও পক্ষপাতিত্বের শঙ্কা। | শতভাগ নিরপেক্ষতা ও কারচুপিহীন ভোটের পরিবেশ। |
| জাতীয় আন্দোলন | আন্দোলনের লক্ষ্যসমূহ এখনও অপূর্ণ। | গণভোটের মাধ্যমে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ নির্মূল। |
নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “কোনো বিশেষ দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা মাঠেই আছি এবং যেকোনো অন্যায়ের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।” তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি জাতির অস্তিত্ব ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই।
নাহিদ ইসলাম আসন্ন নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিতব্য ‘গণভোট’ নিয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, “আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রদানের মাধ্যমে বৈষম্য, চাঁদাবাজি, জুলুম ও আধিপত্যবাদকে ‘না’ বলব। ছাত্র-জনতার যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, সেই লক্ষ্যগুলো এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়নি। ফ্যাসিবাদের অবশেষ এবং নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি বিশ্বাস করেন, গণভোটের বিজয় হবে আন্দোলনের চূড়ান্ত উল্লাস।
ঢাকা-১৫ আসনের এই জনসমাবেশে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য মূলত প্রান্তিক মানুষের নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির এক জোরালো ইশতেহার। তাঁর মতে, মানুষ কেবল চটকদার প্রতিশ্রুতি বা কার্ড-ফ্ল্যাট চায় না, তারা চায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও জীবনের নিরাপত্তা। ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনের এই লড়াইয়ে তিনি জোটবদ্ধভাবে আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।