খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ন্যায়বিচার, পুনর্বহাল এবং ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার সকালে নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আগত শতাধিক সাবেক ব্যাংকার অংশ নেন।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য, ইচ্ছামতো বরখাস্ত এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার প্রবণতা চলমান রয়েছে। বক্তারা বলেন, শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নীতিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া ব্যাংকিং পেশাজীবীদের জন্য ন্যায্যতা, জবাবদিহি এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ভোর থেকেই অংশগ্রহণকারীরা “বরখাস্ত ব্যাংকার” লেখা টি-শার্ট পরে কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাদের মতে, এই লেখা তাদের অভিন্ন পরিচয় এবং বহু বছরের পেশাগত বঞ্চনার প্রতীক। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে তারা ন্যায়বিচার, চাকরি পুনরুদ্ধার, শ্রম অধিকার সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বারবার উল্লেখ করেন, কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও অহিংসভাবে পালিত হয়েছে।
বরখাস্ত ব্যাংকারদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক মতাদর্শ, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা অথবা ব্যাংকের ভেতরের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাদের চাকরি হারাতে হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কোনো লিখিত অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্ত বা বিভাগীয় শুনানি ছাড়াই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও তাদের পরিবার তীব্র আর্থিক সংকট ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
একজন বরখাস্ত ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন চাকরি করার পর হঠাৎ বরখাস্ত হওয়ায় অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে পরিবারগুলোকে চরম সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তার মতে, ন্যায্য তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত না হলে ব্যাংকিং খাতে মনোবল, পেশাদারিত্ব এবং নিরাপত্তাবোধ ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, গত এক দশকে ব্যাংকগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের ওপর বিধিনিষেধ বেড়েছে, যার ফল হিসেবে বরখাস্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বিষয়টিকে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার, শ্রম অধিকার এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে আয়োজকরা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি উপেক্ষিত হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের মতে, বরখাস্ত কর্মচারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে ব্যাংকিং খাতে টেকসই স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও পেশাগত আস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
নিচে অবস্থান কর্মসূচিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| দাবি | বিবরণ |
|---|---|
| পুনর্বহাল | যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া বরখাস্ত ব্যাংকারদের পূর্বের পদে পুনর্নিয়োগ |
| স্বাধীন তদন্ত | বরখাস্তের ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় নিরপেক্ষ কমিশন গঠন |
| আর্থিক ক্ষতিপূরণ | বকেয়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান |
| নীতিগত সংস্কার | ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছ ও ন্যায্য বরখাস্ত নীতিমালা প্রণয়ন |
আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হবে এবং এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে আরও ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও অধিকারসম্মত পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।