খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে মাঘ ১৪৩২ | ২৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন শুরু করেছে। মৌখিক পরীক্ষা ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নির্বাচনের আগেই, ১০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রত্যেক জেলায় একাধিক বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নুর মো. শামসুজ্জামান জানান, “নির্বাচনের আগেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রতিটি জেলায় বোর্ডগুলোতে অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। নির্বাচনের কারণে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হয়তো ব্যস্ত থাকবেন, তবে এডিসি ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।”
অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নির্বাচনের মাত্র ১৫ দিন আগে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু করা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। প্রতি জেলায় জেলা প্রশাসক বোর্ডের সভাপতি এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য সচিব। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দায়িত্বের কারণে তারা পূর্ণ সময় দিতে পারছেন না। ফলে মৌখিক পরীক্ষার সময় অনিয়ম, গুজব ও বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বছর মৌখিক পরীক্ষার সিস্টেমেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকলেও এবার তা ১০ নম্বরে হ্রাস করা হয়েছে এবং প্রথমবার পাস-ফেল সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বোর্ডে অধিদপ্তর থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য ও পরীক্ষার সময়সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | কার্যক্রম | নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৯ জানুয়ারি | লিখিত পরীক্ষা | 69,265 | ৬১টি জেলায় অনুষ্ঠিত |
| ২১ জানুয়ারি | লিখিত ফলাফল প্রকাশ | 69,265 | মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত |
| ২৮ জানুয়ারি – ৩ ফেব্রুয়ারি | মৌখিক পরীক্ষা | 69,265 | একাধিক বোর্ডে পরিচালিত |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ | 14,000+ | নির্বাচনের আগেই প্রকাশের পরিকল্পনা |
গত লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট চক্র আটক হয়েছে। গাইবান্ধা, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, জামালপুর ও ভোলা জেলায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও প্রক্সি ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টা ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ঘেরাও করেছিলেন।
প্রার্থীদের অবশ্যই অনলাইনে আপলোডকৃত ছবি, আবেদনপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ২৭ জানুয়ারির মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।
এভাবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্ক ও সম্ভাব্য অনিয়মকে চোখ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।