খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে আবার জাতীয় ক্রিকেট দলে নেওয়া নিয়ে সম্প্রতি নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, সাকিবকে ভবিষ্যতে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচক প্যানেলের মূল্যায়ন ও বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে—দল থেকে দীর্ঘ এক দেড় বছরের দূরত্ব থাকার পর হঠাৎ কেন তাকে ফেরানো হচ্ছে, এবং এটি কি প্রকৃত ক্রিকেট বিষয়ক উদ্যোগ নাকি শুধুই ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি সাকিব। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে তাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমন তথ্য দিয়েছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সাকিব মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে।
এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| বছর ও তারিখ | ঘটনা | প্রভাব |
|---|---|---|
| ২০২৪, জানুয়ারি | সংসদ নির্বাচনে জয় | রাজনৈতিক পরিচয় বৃদ্ধি |
| ২০২৪, অগাস্ট | কানাডার টি-টোয়েন্টি লীগে অংশগ্রহণ | দেশব্যাপী আন্দোলনকালে অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা |
| ২০২৪, অক্টোবর | দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট | দেশে ফিরে না আসায় বিতর্ক |
| ২০২৫, নভেম্বর | সামাজিক মাধ্যমে বাদানুবাদ | পুনর্বাসনের সম্ভাবনা নিয়ে উত্তেজনা |
| ২০২৬, জানুয়ারি | বিসিবি সভা ও ঘোষণাপত্র | জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা প্রকাশ |
বিসিবি মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সাকিবের ফিটনেস, এভেইলেবিলিটি এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে তাকে ভবিষ্যতে দলে নেওয়া হতে পারে। বোর্ড জানিয়েছে, সাকিব ইতিমধ্যেই হোম এবং অ্যাওয়ে সিরিজে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমান সরকারই সাকিবের দলে ফেরার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে, বিসিবির এখতিয়ার নেই। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবরও জানিয়েছেন, সরকারের অনুমোদন থাকলে ফেরায় কোনো বাধা নেই, তবে সরকারের অবস্থান পরিবর্তিত হলে বোর্ডের কিছু করার থাকবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে বিসিবি নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং ক্রিকেটীয় কূটনীতিতে হার সামাল দিতে সাকিবকে সামনে এনেছে। ক্রীড়া সাংবাদিকরা এটিকে ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ হিসেবে দেখছেন, কারণ দেশের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড এবং সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারকে নিয়েই বোর্ড সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার সূচনা করেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন থেকে যায়—যে খেলোয়াড় অবসরে যেতে চাচ্ছেন, তাকে কেন্দ্রীয় চুক্তি দেওয়া হবে কেনো, এবং দলের জন্য প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তরা এখন অপেক্ষায় আছেন, শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে দেখা যাবে কি না।