খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে ‘স্পাই ক্যামেরা’ বা গোপন ক্যামেরা স্থাপনের মতো এক ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার বিকেলে এক পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হাসপাতালের অভ্যন্তরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-১-এর ৯০৭ নম্বর কক্ষে। ভুক্তভোগী এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি ওই কক্ষে কর্মরত থাকা অবস্থায় সংযুক্ত ওয়াশরুমটি ব্যবহার করতে যান। সেখানে তিনি একটি কলম সদৃশ লুক্কায়িত ‘স্পাই ক্যামেরা’ দেখতে পান। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি ক্যামেরাটি নিজের হেফাজতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্যামেরাটি নিয়ে বের হওয়ার পর সেখানে কর্মরত অভিযুক্ত পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক সেটি ফেরত চান। নারী চিকিৎসক দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ধস্তাধস্তি শুরু করেন এবং ক্যামেরাটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ওই নারী চিকিৎসক হাতে আঘাত পান এবং আত্মরক্ষার্থে পাশের ইউনিটে চলে যান।
তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সারসংক্ষেপ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনাস্থল | সার্জারি ইউনিট-১, কক্ষ নং ৯০৭, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। |
| অভিযোগের ধরণ | ওয়াশরুমে গোপন স্পাই ক্যামেরা স্থাপন ও নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা। |
| প্রশাসনিক ব্যবস্থা | অভিযুক্তের ইন্টার্নশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত। |
| তদন্ত কমিটি | ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি (প্রধান: অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু হানিফ)। |
| আইনি অবস্থা | অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক পুলিশি হেফাজতে। |
| বিক্ষোভের কারণ | সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি। |
আবেদনে ভুক্তভোগী চিকিৎসক উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও ওই পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক সন্দেহজনক আচরণ করতেন। নারী চিকিৎসকরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি নিজে সেখানে প্রবেশ করতেন। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটায় অন্য নারী চিকিৎসকদের মধ্যেও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। এই লিখিত অভিযোগের পর হাসপাতালের পরিচালক মো. আবদুল কদ্দুস তাৎক্ষণিক এক অফিস আদেশে অভিযুক্তের ইন্টার্নশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। এছাড়া ঘটনার সঠিক কারণ ও তথ্য উদ্ঘাটনে সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু হানিফকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে হাসপাতালে আসেন। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অভিযুক্তের কক্ষের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তলব করা হয়। একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম দোহা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হলে তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
মেডিকেল কলেজের মতো একটি সংবেদনশীল ও সেবামূলক স্থানে নারী চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও পেশাদারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।