খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের থাকার কথা ছিল ভারতের বেঙ্গালুরুতে—প্রস্তুতি ম্যাচ, অনুশীলন আর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের ব্যস্ততায়। বাস্তবতা হলো, তাঁদের অনেকেই এখন গ্রামের বাড়িতে, কেউ ঢাকায় অবসর সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ নিকটবর্তী মাঠে একা একা ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এক জাতীয় দলের ক্রিকেটারের কথায়, ‘বাড়ির কাছেই মাঠ আছে। সেখানে গিয়ে ফিটনেসটা ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। খেলার তো কোনো খবর নেই!’ এই এক লাইনের মধ্যেই যেন ধরা পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান স্থবিরতা।
নিরাপত্তা–সংক্রান্ত শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতগামী দল পাঠাতে রাজি না হওয়ায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর প্রভাব শুধু জাতীয় দলের ওপর নয়, পুরো দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনাতেই পড়েছে। যাঁরা বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন অনিশ্চয়তায়—পরবর্তী ম্যাচ কবে, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটই বা কোথায়?
এই চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুপুরবেলায় একাডেমি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনুশীলনের কোনো ব্যস্ততা নেই, ফিটনেস ট্রেনিংও চোখে পড়ে না। যেখানে সাধারণত জাতীয় ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের আনাগোনা লেগেই থাকে, সেখানে কেবল মাঠকর্মীদের ঘাস কাটার কাজ চলছে। বিসিবি ভবনেও নেই চেনা তাড়াহুড়া; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথাবার্তায় বোঝা যায়, ক্রিকেটের গতি কমে যাওয়ায় তাঁদের কাজের চাপও হ্রাস পেয়েছে।
বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বোর্ডের ভেতরের অনেক সিদ্ধান্তই এখন জাতীয় নির্বাচনের পরের সময়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থ আর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অনিশ্চয়তায় সবাই যেন আপাতত নীরব থাকতে চাইছেন। এই নীরবতার মধ্যেও ক্রিকেট পুরোপুরি থেমে নেই। পূর্বাচলের ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপ টি-টোয়েন্টির আয়োজন হচ্ছে, তবে সেটিও মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটের সংকট সামাল দেওয়ার এক ধরনের ‘জোড়াতালি’ উদ্যোগ।
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের পর থেকেই। বর্তমান বোর্ডকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ৪৮টি ক্লাব অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ হয়েছে অর্ধেকেরও কম ক্লাব নিয়ে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে—১২ ক্লাবের মধ্যে ৯টিই বয়কটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ক্রিকেটারদের আয়ের বড় একটি উৎসকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ বাড়ছে। জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন আগেই অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইনাম মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণ এবং এপ্রিলে চার দিনের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ | বাংলাদেশ নেই |
| জাতীয় দলের ক্রিকেটার | ছুটিতে/ব্যক্তিগত অনুশীলনে |
| মিরপুর অনুশীলন | কার্যত স্থবির |
| ক্লাব ক্রিকেট | ব্যাপক বয়কট |
| বিকল্প আয়োজন | সিসিডিএম টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ কাপ |
| ভবিষ্যৎ সূচি | ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে, এপ্রিলে চার দিনের ম্যাচ |
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট যেন এক অচলাবস্থায় দাঁড়িয়ে। মাঠে খেলার চেয়ে মাঠের বাইরে সিদ্ধান্তহীনতাই এখন বড় প্রতিপক্ষ।