খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক অপহরণের অভিযোগের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি, সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও তাদের পরিবার। অভিযুক্ত, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষককে তার বাসা থেকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সাহেদ হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেল চালক হিসেবে ছিলেন এবং শিক্ষককে পেছনে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে শিক্ষক ও তার পরিবারের দাবি, ওই সময় থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পর প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা গেটে আটকা পড়েন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে, পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের দাবির ভিত্তিতে কার্যক্রম স্থগিত করেন।
ছাত্রদের প্রধান দাবি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
| ক্রম | দাবি / প্রতিক্রিয়া | সময়সীমা / মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১ | শিক্ষক অপহরণের ঘটনা তদন্ত | ৩ কার্যদিবসের মধ্যে |
| ২ | শিক্ষককে ক্যাম্পাসে হাজির করা | ৩১ জানুয়ারির মধ্যে |
| ৩ | বিগত দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ | ৩ কার্যদিবসের মধ্যে |
| ৪ | সকল শিক্ষকমুক্ত সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ | অবিলম্বে কার্যকর |
এ ঘটনার পর শিক্ষক জুয়েলকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একটি দল তাকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনে।
অভিযুক্ত সাহেদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “শিক্ষক আমাকে সকালে ফোন দিয়ে তার নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছিলেন। আমি তাকে নিরাপদে নিয়ে যাই এবং পরে বাসায় পৌঁছে দিই। অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, “উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন শিক্ষককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত কমিটি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালও জানিয়েছেন, “উভয় পক্ষকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি, এবং আমরা শিক্ষককে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করেছি।”
এর মধ্যেই বিভাগীয় প্রভাষক নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম শিক্ষক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও মৌখিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে।