খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ রাহিম স্টার্লিং অবশেষে চেলসির সঙ্গে তাঁর অম্ল-মধুর সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। দীর্ঘ আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩১ বছর বয়সী এই উইঙ্গার ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চেলসির বর্তমান মালিকানাধীন টড বোয়েলি-ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের অধীনে প্রথম বড় মাপের বা ‘মার্কি সাইনিং’ হিসেবে তিনি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পা রেখেছিলেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্স এবং ক্লাবের পরিবর্তনশীল নীতির কারণে তাঁর চেলসি অধ্যায় প্রত্যাশিত উচ্চতা স্পর্শ করতে পারেনি।
রাহিম স্টার্লিং চেলসির সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় ছিলেন, যাঁর সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড। ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তির আরও ১৮ মাস বাকি থাকলেও গত ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকাল থেকেই তিনি দলের মূল পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন। চেলসির তরুণ খেলোয়াড় নির্ভর নতুন দলবদল নীতির কারণে স্টার্লিংয়ের মতো অভিজ্ঞ ও ব্যয়বহুল খেলোয়াড়কে ধরে রাখা ক্লাবের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চলতি মৌসুমে কোনো ম্যাচেই তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি এবং তিনি মূল দলের বাইরে আলাদাভাবে অনুশীলন করছিলেন।
চেলসি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “চেলসির খেলোয়াড় হিসেবে রাহিমের অবদানের জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করছি।”
২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই স্টার্লিং তাঁর সেরা ফর্ম খুঁজে পেতে লড়াই করেছেন। নিচে তাঁর পেশাদার জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| আগমনের সময় | ২০২২ (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে) |
| সাপ্তাহিক বেতন | ৩,২৫,০০০ পাউন্ড (চেলসির সর্বোচ্চ) |
| বিগত মৌসুম (২০২৪-২৫) | আর্সেনালে ধারে (Loan) খেলা |
| চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ | ১৮ মাস (বাতিলের পূর্বে) |
| জাতীয় দলের সাফল্য | ইউরো ২০২০ ফাইনালিস্ট (৩টি গোল) |
| বিশেষ সম্মাননা | এমবিই (MBE), ২০২১ (বর্ণবাদ বিরোধী ভূমিকা) |
লিভারপুলের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই উইঙ্গার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। জাতীয় দল ইংল্যান্ডের হয়েও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে ইউরো ২০২০-এ তিনটি গোল করে ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডকে প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে তুলতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ফুটবলের পাশাপাশি বর্ণবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকার জন্য ২০২১ সালে তিনি ‘এমবিই’ (MBE) খেতাব লাভ করেন। অথচ ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে জাতীয় দলে তাঁর জায়গা থমকে আছে এবং ক্লাবেও তিনি তাঁর হারানো গৌরব ফিরে পেতে মরিয়া।
চেলসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার পর স্টার্লিং এখন তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন এক সূচনার অপেক্ষায় আছেন। এর আগে তিনি লন্ডনের বাইরের কোনো ক্লাবে যেতে অনীহা প্রকাশ করলেও বর্তমানে ক্যারিয়ার পুনর্গঠনের জন্য তিনি ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে যেকোনো ভালো ক্লাবে যোগ দিতে উন্মুখ। চলতি জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে লন্ডনের ক্লাব ফুলহ্যাম, ক্রিস্টাল প্যালেস এবং ওয়েস্ট হ্যাম তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
রাহিম স্টার্লিংয়ের এই বিদায় মূলত একটি যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে ব্যক্তিগত প্রতিভা এবং বিশাল বেতনকাঠামোর চেয়ে তারুণ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে চেলসি। ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার পুনরায় মাঠে ফিরে তাঁর গতির জাদু দেখাবেন এবং আবারো নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে প্রমাণ করবেন।