খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তেজগাঁও সাতরাস্তা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে মিছিল করে হোস্টেল থেকে সরাসরি সড়কে অবস্থান নেন, যার ফলে প্রধান সড়কগুলিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুপারিশ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি ও গ্রেড সংক্রান্ত অধিকারকে উপেক্ষা করেছে। তারা দাবি করেছেন, যদি কমিটির সুপারিশ প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর আকার নেবে।
এর আগে, বিএসসি এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব ও আন্দোলন নিরসনের জন্য সরকার অন্তর্বর্তীকালীন একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি পর্যালোচনা শেষে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুপারিশ প্রদান করে। এই সুপারিশ প্রকাশের পরপরই ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র আকার নেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ। তারা দাবি করেছেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত পদে অন্য গ্রুপের নিয়োগ বৈষম্যমূলক। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে কমিটির সুপারিশ বাতিল এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ন্যায্য দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় | কার্যক্রম | অবস্থান/প্রভাব | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ২৮ জানুয়ারি, রাত ১১:৩০ | হোস্টেল থেকে মিছিল শুরু | সাতরাস্তা, তেজগাঁও | যান চলাচল বন্ধ |
| ২৮-২৯ জানুয়ারি রাত | সড়ক অবরোধ ও অবস্থান | প্রধান সড়ক | পুলিশ পাহারা ও যানজট সৃষ্টি |
| ২৯ জানুয়ারি | পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা | পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট | আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে পরিকল্পিত |
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে তারা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলিতে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করবেন। তারা দাবি করছেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ দূর করা এবং ন্যায্য গ্রেড প্রদান নিশ্চিত করা হবে।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মনিটর করছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে সড়ক অবরোধ ও পরীক্ষা বর্জনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং আন্দোলনের তীব্রতা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।