খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
মাদারীপুরের ১০ জন যুবক উন্নত জীবন ও বৈধ চাকরির আশায় লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য দেশ ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চেয়েছেন। নিখোঁজ যুবকদের জীবনবৃত্তান্ত ও তাদের পরিবারের অভিযোগ অনুসারে, দালাল চক্র তাদের কাছ থেকে প্রত্যেকের ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নিখোঁজ যুবকদের মধ্যে এক পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মামলা করা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিখোঁজ যুবকদের তালিকা ও বয়সের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | পিতার নাম | ইউনিয়ন/এলাকা | বয়স (বছর) |
|---|---|---|---|
| লিমন বেপারী | আনোয়ার বেপারী | কেন্দুয়া, নয়াকান্দি | ১৯ |
| রবিউল মাতুব্বর | হেমায়েত মাতুব্বর | কেন্দুয়া, নয়াকান্দি | ২২ |
| জয় মাতুব্বর | টিটু মাতুব্বর | দত্তেরহাট | ২০ |
| জীদান হোসেন হাওলাদার | মোক্তার হাওলাদার | দত্তেরহাট | ১৮ |
| ওয়ালিদ হাসান অভি | জুলহাস চোকদার | মোস্তফাপুর, গাছবাড়িয়া | ১৯ |
| মোহাম্মদ আলী | — | পেয়ারপুর, মাছকান্দি | ২২ |
| শরিফুল ইসলাম | আবুল বাশার মাতুব্বর | রাজৈর, বাজিতপুর, মাচ্চর | ২৭ |
| আজমুল খাঁ | হাশেম খাঁ | রাজৈর, পাখুল্লা | ৩০ |
| তুহিন মজুমদার | কালু মজুমদার | মোল্লাকান্দি | ২৩ |
| মাহাবুব | — | নতুন বাস স্ট্যান্ড, শহর | ২১ |
পরিবারগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দুয়া ইউনিয়নের গাজীরচর এলাকার পেয়ারার বেগমের প্রলোভনে পড়ে যুবকরা বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রত্যেককে সরাসরি ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা বাড়ি ছাড়েন, পরে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণের নামে আরও লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এপ্রিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারা লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, এরপর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, পেয়ারার বেগমের বড় ছেলে ফারদিন ঢালী ইতালি থেকে মানব পাচারের নির্দেশ দেয় এবং ছোট ছেলে সৌরভ পরিবারগুলোর কাছ থেকে টাকা আদায় করে। চক্রের সঙ্গে শরীয়তপুরের জালাল কাজীর ছেলে সবুজ কাজী ও লিয়াকত শেখের ছেলে মুজাহিদ শেখও যুক্ত।
নিখোঁজ লিমনের বাবা আনোয়ার বেপারী বলেন, “পেয়ারার বেগমের প্রলোভনে পড়ে বাধ্য হয়ে পাসপোর্ট ও টাকা দিয়েছি। লিবিয়ায় আটকে রেখে মোট ২৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ১০ মাসেও কোনো খোঁজ পাইনি।”
শরিফুলের মা রাজিয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলে বেঁচে আছেন কি মারা গেছেন, জানি না। পেয়ারার বেগম ও তার লোকজনই জানে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মানবপাচারের অর্থ দিয়ে দালালরা রাতারাতি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশিত হলে চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।