খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর হবিগঞ্জ জেলা শাখায় একযোগে ১৩ নেতার পদত্যাগে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। ফ্যাসিবাদী নেতাদের পুনর্বাসন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বঞ্চনা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দুর্নীতি–সহ নানা অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করা এই নেতারা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) গভীর রাত ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটিতে অনুগত শ্রেণি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য থেকে সরে এসে দুই মাসের মধ্যে দুটি জোটে যুক্ত হওয়ায় দলের নীতি ও আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। এ ছাড়া, উপদেষ্টা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে।
পদত্যাগকারীরা প্রার্থী মনোনয়ন সংক্রান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মনোনীত প্রার্থীদের জন্য জুলাইযোদ্ধারা কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এছাড়া জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে তারা ‘চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগকারীদের নাম ও পদ সমূহ নিম্নরূপ টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | পদ |
|---|---|
| পলাশ মাহমুদ | সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব |
| মো. নূরুল হক টিপু | যুগ্ম আহ্বায়ক |
| অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির | সদস্য |
| সিরাজুল হক সজিব | যুগ্ম সদস্যসচিব |
| শেখ রুবেল আহমেদ | সদস্য |
| সালমা হাসান | সদস্য |
| সঞ্জয় দাশ | সদস্য |
| মো. হারুন মিয়া | সদস্য |
| মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ | সদস্য |
| অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন | সদস্য |
| এএইচএম শফিউল আলম খান | সদস্য |
| মো. জাহিদ মিয়া | সদস্য |
| সোফায়েল আহমেদ | সদস্য |
পলাশ মাহমুদ বলেন, “আমরা ১৩ জনের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হতাশা ও নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মধ্যপন্থার রাজনীতি কার্যকরভাবে নেই। তবে যদি এনসিপি বা অন্য কোনো নতুন দল মধ্যপন্থার আদর্শে গড়ে ওঠে এবং একাত্তর ও চব্বিশ-উভয়কে ধারণ করতে পারে, তাহলে আমরা যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি। অন্যথায় একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হবিগঞ্জ জেলা শাখায় এই পদত্যাগ শুধু স্থানীয় সংকট নয়, বরং কেন্দ্রীয় কমিটির নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি নেতাদের ক্ষোভের প্রতিফলন। দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দ্রুত সমাধান না হলে জাতীয় পর্যায়ে এনসিপির অবস্থান আরো দুর্বল হতে পারে।