খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
মাদারীপুরের ১০ জন তরুণ অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পর প্রায় ১০ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, জীবিত আছেন কি মারা গেছেন তা এখনও জানা যায়নি। প্রত্যেক পরিবারই দালাল চক্রকে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে, কিন্তু সন্তানের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ তরুণদের নাম, বয়স ও গ্রামের তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | ইউনিয়ন/গ্রাম | পিতার নাম |
|---|---|---|---|
| লিমন ব্যাপারী | ১৯ | কেন্দুয়া ইউনিয়ন, নয়াকান্দি | আনোয়ার ব্যাপারী |
| রবিউল মাতুব্বর | ২২ | কেন্দুয়া ইউনিয়ন | হেমায়েত মাতুব্বর |
| জয় মাতুব্বর | ২০ | দত্তেরহাট, কেন্দুয়া ইউনিয়ন | টিটু মাতুব্বর |
| জীদান হোসেন হাওলাদার | ১৮ | মোক্তার হাওলাদার এলাকা | মোক্তার হাওলাদার |
| ওয়ালিদ হাসান | ১৯ | মস্তফাপুর ইউনিয়ন, গাছবাড়িয়া | জুলহাস চোকদার |
| মোহাম্মদ আলী | ২২ | পেয়ারপুর ইউনিয়ন, মাছকান্দি | – |
| শরিফুল ইসলাম | ২৭ | বাজিতপুর ইউনিয়ন, মাচ্চর | আবুল বাশার মাতুব্বর |
| আজমুল খাঁ | ৩০ | পাখুল্লা | হাশেম খাঁ |
| তুহিন মজুমদার | ২৩ | মোল্লাকান্দি | কালু মজুমদার |
| মাহাবুব হোসেন | ২১ | মাদারীপুর শহর, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা | – |
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রতিজনকে ১৫ লাখ টাকায় ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। স্থানীয় দালাল জাহাঙ্গীর ঢালীর স্ত্রী পেয়ারা বেগম ও তাঁর চক্রের মাধ্যমে তরুণদের প্রথমে দুবাই নেওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন রাখার পর লিবিয়ার একটি শহরের বন্দীশালায় আটকে রাখা হয়। দালাল চক্র প্রত্যেকের পরিবার থেকে ১৩–১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। এরপর, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লিবিয়ার উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে তারা। কিন্তু তারপর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
লিমনের বাবা আনোয়ার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, “দালালদের প্রলোভনে পড়ে আমার ছেলে সবকিছু মানতে বাধ্য হয়। লিবিয়ায় আটক হয়ে ২৮ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে কোনো খবর নেই।” জয় মাতুব্বরের বাবা টিটু মাতুব্বর বলেন, “আমার ছেলে পেয়ারা বেগমের বাড়িতে কাজ করত। লোভ দেখিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এখন পরিবারের কেউ জানে না কোথায় আছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ ১০ তরুণের মধ্যে একজনের পরিবার একটি মামলা করেছে। সেই মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার। বাকিদের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দালালদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মানবপাচার ও অবৈধ বিদেশযাত্রা রোধ না করলে মানুষ জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন পেয়ারা বেগমের দুই ছেলে — ফারদিন ঢালী ইতালি থেকে নির্দেশনা দিতেন, আর সৌরভ ঢালী পরিবার থেকে অর্থ আদায় করতেন। এছাড়া শরীয়তপুরের সবুজ কাজী ও মুজাহিদ শেখ, এবং পেয়ারা বেগমের ভাই আলী আকবরও এই চক্রে জড়িত ছিলেন।
পরিস্থিতি এখনও অচল, নিখোঁজ তরুণদের স্বজনরা নিজেদের সন্তানদের সন্ধান ও দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।