খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান সেকশন) হার উদ্বেগজনক মাত্রা অতিক্রম করেছে। এটি এখন শুধু স্বাস্থ্যজনিত উদ্বেগ নয়, বরং একটি জাতীয় স্বাস্থ্যসংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে সম্প্রতি পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর দেশে প্রায় ১৭ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে ২১ শতাংশ শিশুর জন্মই সিজারিয়ান মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে এই হার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিস্থিতি আরও নাজুক: প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টির জন্মই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হচ্ছে।
| ধরন | বিশ্বস্ত হার | বাংলাদেশে মোট জন্মের হার | বেসরকারি হাসপাতাল হার |
|---|---|---|---|
| সিজারিয়ান | ২১% | ~৫০% | ~৯০% |
| স্বাভাবিক প্রসব | ৭৯% | ~৫০% | ~১০% |
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। চিকিৎসকদের সময়ের অভাব, বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিকদের আর্থিক স্বার্থ, এবং গর্ভবতী নারীর মধ্যে অমূলক ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা। স্বাভাবিক প্রসব দীর্ঘমেয়াদি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও, অনেক হাসপাতাল ও চিকিৎসক এটিকে ‘দ্রুত ও সহজ’ সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এছাড়া স্বাভাবিক প্রসবকে ঝুঁকিপূর্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে চিত্রায়িত করে গর্ভবতী মা ও পরিবারের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও ভয়াবহ। এটি মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ এই অযৌক্তিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় হচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সচেতনতা নয়, প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সরকারি তদারকি জোরদার করা, মিডওয়াইফারি বা দক্ষ ধাত্রীসেবাকে উৎসাহিত করা, এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ৯০ শতাংশই যদি বাণিজ্যিক কারণে সিজারিয়ান হয়, তবে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে। মাতৃস্বাস্থ্যকে এই ব্যবসায়িক চক্র থেকে মুক্ত করা এখন সময়ের সাপেক্ষ বিষয়।