খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দেশের অর্জন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের জনবল সংকট সাফল্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে অধিদপ্তরের অনুমোদিত মোট পদে প্রায় ২৮ শতাংশ শূন্যপদ রয়েছে। জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই শূন্যপদের হার আরও উদ্বেগজনক—অনেক স্থানে ২৮ থেকে ৪৫ শতাংশ পদ খালি।
মাঠপর্যায়ে এই শূন্যপদের প্রভাব সরাসরি নাগরিক সেবায় প্রতিফলিত হচ্ছে। পরিবারকল্যাণ সহকারী, মিডওয়াইফ এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকরা বাড়িতে গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ বিতরণ, গর্ভবতী মা ও নবজাতকের সেবা প্রদান এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তিনজনের কাজ এককভাবে করতে গেলে কার্যক্রম মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় না।
| পদ | মোট সংখ্যা | শূন্যপদ সংখ্যা | শূন্যপদের হার (%) |
|---|---|---|---|
| পরিবারকল্যাণ সহকারী | ২৩,৫০০ | ৪,১৮৮ | ১৭.৮ |
| পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক | ৩৭১ | ৩৭১ | ১০০ |
| ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার | ২,৫০০ | ৮৭৮ | ৩৫.১ |
| জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ | ভিন্ন ভিন্ন | ৩৬–৪৫% খালি | — |
জেলা পর্যায়েও পরিস্থিতি সংকটজনক। রাজশাহীতে প্রায় ৩৬ শতাংশ ও ফরিদপুরে ৩৯ শতাংশ পদ খালি। ফরিদপুরে ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদে ৮টি পদে একটিও কর্মী নেই। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও গাইবান্ধায় শূন্যপদের হার যথাক্রমে ৪৪ এবং ৩৮ শতাংশ। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
পরিচালনা কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়াই মূল কারণ। সর্বশেষ ২০২০ সালে ৩৬টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল; কিন্তু পাঁচ বছরে মাত্র ৯টির নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২৭টি ক্যাটাগরির নিয়োগ এখনো স্থগিত। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন পদের অনুমোদন না মেলায় এবং মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়োগ আটকে রয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মীর সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগবিধি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলে দেশব্যাপী শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহের পর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বিদ্যমান জনবল সংকট এবং প্রান্তিক মানুষের সেবা বঞ্চনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব নয়।
এছাড়া স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশরের প্রস্তাবিত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর’ গঠন পরিকল্পনায় তিনটি অধিদপ্তর একীভূত করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় এবং উদ্বেগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় নিয়োগ ও পদোন্নতি কীভাবে হবে, তা এখনও অস্পষ্ট।