খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শীর্ষ কর্মকর্তা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক ১১ বছর বয়সী শিশুকে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে ড. সাফিকুর রহমানের বাসভবনে। সেখানে কর্মরত ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক কায়দায় নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতিত শিশুর পিতা মোস্তফা মিয়া গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার প্রেক্ষিতে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে এমডির নিজস্ব বাসভবনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ড. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীকে গ্রেপ্তার করে। একই সাথে নির্যাতনের ঘটনায় সহায়তাকারী হিসেবে ওই বাসার আরও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং সুফিয়া বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেপুর রহমান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া আসামিদের জেলহাজতে আটকে রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নিচের টেবিলে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং আসামিদের পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | আসামির নাম | পরিচয় ও পদবি | আইনি অবস্থা |
| ০১ | ড. সাফিকুর রহমান | এমডি ও সিইও, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস | কারাগারে প্রেরিত |
| ০২ | বিথী | সাফিকুর রহমানের স্ত্রী | কারাগারে প্রেরিত |
| ০৩ | রুপালী খাতুন | গৃহকর্মী (সহযোগী আসামি) | কারাগারে প্রেরিত |
| ০৪ | মোছা. সুফিয়া বেগম | গৃহকর্মী (সহযোগী আসামি) | কারাগারে প্রেরিত |
| অভিযোগ | শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন | মামলা দায়েরকারী | নির্যাতিত শিশুর পিতা মোস্তফা |
বিমানের মতো একটি সংবেদনশীল এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১১ বছরের একটি শিশুর ওপর যে ধরনের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা মামলার এজাহারে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল মনে করছেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবনের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
তদন্ত কর্মকর্তার মতে, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে দীর্ঘকাল ধরে ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয়েছে। ড. সাফিকুর রহমান গত বছর বিমানের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে আলোচনায় ছিলেন, তবে এবার তার ব্যক্তিগত জীবনের এই ফৌজদারি অপরাধ তাকে আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আদালত মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।