খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে জামায়াতে ইসলামের আমিরকে কঠোর আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ, মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না।”
রিজভী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী যখন নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করছিল, তখন জামায়াত তা স্বীকার করেনি; বরং সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। তিনি বলেন, “আজ যাদের মুখে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা শোনা যাচ্ছে, তারা তখন নির্যাতনের পক্ষে ছিলেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের বর্তমান অবস্থান এবং নারী-বিরোধী মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। রিজভী বলেন, “গতকাল চট্টগ্রামে যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তিনি কখনো নিজেকে তা দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।”
রিজভী বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামকালের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর ধরে অত্যাচার সহ্য করেছেন, বন্দি ও গৃহবন্দি হয়েছেন, তবুও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি। সত্যের মুখোশ একসময় খুলে পড়ে।”
শবেবরাতের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হন। ইসলামের প্রতিটি উৎসব—ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবেবরাত—আল্লাহর করুণা ও নেয়ামত লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত। সমাজে পবিত্রতা না থাকলে সংঘাত, অপরাধ ও অনাচার বৃদ্ধি পায়।”
রিজভী ইসলামের নামে রাজনৈতিক সুবিধা লুটের প্রক্রিয়াকেও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “প্রকৃত মুসলমান কখনো মিথ্যা বলতে পারে না। ধর্মকে ব্যবসার বস্তু বানালে সমাজে পাপ-বৃদ্ধি হয়।”
নারীদের মর্যাদা বিষয়ে তিনি বলেন, “ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন হজরত বিবি খাদিজা (রা.)। অথচ আজ নারীদের অবমূল্যায়ন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্যের পর নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, যা ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা সেই ক্ষোভ ঢাকার কৌশল।”
মাহফিলে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।