খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, জাতীয় সঞ্চয় সনদ (NSC) থেকে অর্জিত সুদে ধার্য হোল্ডিং কর কমানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তটি মূলত বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি আয়ের বিনিয়োগকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, BDT ৫ লাখ পর্যন্ত NSC বিনিয়োগের সুদে এখন ৫% হোল্ডিং কর ধার্য করা হবে, যা পূর্বের ১০% থেকে কমানো হয়েছে।
এক শীর্ষ এনবিআর কর্মকর্তা মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে, বোর্ড এই সিদ্ধান্ত জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালককে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেরণ করেছে। অফিসিয়াল চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পেনশনভোগীরা যদি BDT ৫ লাখ পর্যন্ত NSC-তে বিনিয়োগ করেন, তবে তারা সুদে সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবেন। BDT ৫ লাখের বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের ১০% হোল্ডিং করই প্রযোজ্য থাকবে।
এই স্পষ্টীকরণ বিশেষভাবে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ জানুয়ারি মাস থেকে কিছু বিনিয়োগকারী ভুলবশত BDT ৫ লাখের কম NSC সুদ থেকেও ১০% হোল্ডিং কর দিয়েছেন। নতুন নির্দেশনা এই অসঙ্গতি দূর করেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও পেনশনভোগীরা কম করের সুবিধা পেতে পারেন।
সচরাচর, NSC বাংলাদেশে সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত সঞ্চয় মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত এবং সংরক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মূল আকর্ষণ হলো মূলধনের নিরাপত্তা এবং নিশ্চিত রিটার্ন, যা অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখে।
বর্তমান হোল্ডিং কর কাঠামো নিম্নরূপ:
| বিনিয়োগের পরিমাণ (BDT) | সুদে হোল্ডিং কর | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ৫,০০,০০০ পর্যন্ত | ৫% | পেনশনভোগী সম্পূর্ণ করমুক্ত; সাধারণ বিনিয়োগকারী ৫% করে কর দিবেন |
| ৫,০০,০০০ এর উপরে | ১০% | মানক হোল্ডিং কর প্রযোজ্য |
অর্থনীতিবিদরা এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি করবে, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়কে উৎসাহিত করবে এবং সরকার-সমর্থিত বিনিয়োগ প্রকল্পে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াবে।
নির্দিষ্ট হারে হোল্ডিং কর হ্রাসের ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধনের উপর আরও বেশি রিটার্ন পাবেন। বাজেট বর্ষের অগ্রগতিতে এই নীতি বিনিয়োগের প্রতি সচেতন সংস্কৃতি গড়ে তুলবে এবং NSC-কে নিরাপদ ও স্থিতিশীল সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে আরও দৃঢ় অবস্থানে রাখবে।