খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে টানা তিন দিন ধরে পরিচালিত বিস্তৃত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অন্তত ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে। একই সময়ে দায়িত্ব পালনেরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২২ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্য। পৃথক সন্ত্রাসী হামলা ও পরবর্তী ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে এই তিন দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে সবচেয়ে বড় রক্তক্ষয়ী ঘটনার একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৩১ জানুয়ারি রাতে, যখন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে একযোগে হামলা চালায়। ওই সমন্বিত হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলার লক্ষ্য ছিল সরকারি স্থাপনা, নিরাপত্তা চৌকি ও ব্যস্ত জনপদ—যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে হামলা চালায়। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলার ধরন ও বিস্তৃতি বিবেচনায় নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে সমন্বিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। প্রথম ধাপে ৯২ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল বলে জানানো হয়েছে। পরবর্তী অভিযান ও মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৭ জনে পৌঁছায়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত গোষ্ঠীর সদস্যরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করা। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীরও বড় ক্ষতি হয়েছে; অভিযানের প্রথম দিনেই ১৫ জন সদস্য নিহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, সীমান্তপথে অস্ত্র ও জঙ্গি অনুপ্রবেশ, এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতা প্রদেশটির নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে এনেছে এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সুসংগঠিত ও টেকসই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান (তিন দিনের ঘটনা):
| শ্রেণি | নিহতের সংখ্যা |
|---|---|
| বিচ্ছিন্নতাবাদী সদস্য | ১৯৭ |
| পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্য | ২২ |
| বেসামরিক নাগরিক | ৩৬ |
| মোট | ২৫৫ |
এই পরিসংখ্যান বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ভয়াবহতা ও মানবিক মূল্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।