খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের প্রখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিও টিভি’-তে প্রচারিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘পাকিস্তানি আইডল’-এর মঞ্চে সম্প্রতি এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানটির ‘ভালোবাসা এবং বন্ধুত্ব’ শিরোনামের একটি বিশেষ পর্বে বাংলাদেশ থেকে অতিথি বিচারক হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী দম্পতি বশীর আহমেদ ও মীনা বশীরের দুই যোগ্য উত্তরসূরি—হোমায়রা বশীর ও রাজা বশীর। উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতব্যক্তিত্ব বশীর আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।
গত ২৮ জানুয়ারি করাচির বিখ্যাত ‘ফিল্ম ফ্যাক্টরি’ স্টুডিওতে এই বিশেষ পর্বটির দৃশ্য ধারণ করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে হোমায়রা ও রাজা বশীর বিচারকের আসনে বসেছিলেন উপমহাদেশের দিকপাল সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে। এই পর্বে বিচারক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত গায়ক আলমগীর হক, রাহাত ফতেহ আলী খান, জেব বাঙ্গাশ এবং বিলাল মাকসুদ। উল্লেখ্য যে, অভিনেতা ফাওয়াদ খান এই অনুষ্ঠানের নিয়মিত বিচারক হলেও বিশেষ কারণে ওই দিন তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বশীর আহমেদের অমর সৃষ্টিগুলোর পরিবেশনা। হোমায়রা ও রাজা বশীর তাঁদের বাবা ও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গেয়ে শোনান কালজয়ী কিছু গান। শুরুতেই তাঁরা মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ‘মনের মানুষ’ সিনেমার বিখ্যাত দ্বৈত গান ‘ওগো প্রিয়তমা’ পরিবেশন করেন। এরপর পাকিস্তানের উর্দু চলচ্চিত্রে বশীর আহমেদের গাওয়া তুমুল জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘মেডলি’ পরিবেশন করেন তাঁরা।
নিচে বশীর আহমেদের উল্লেখযোগ্য কিছু গান ও ব্যক্তিগত তথ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| জন্ম ও স্থান | ১৯ নভেম্বর ১৯৩৯; খিদিরপুর, কলকাতা। |
| ঢাকায় আগমন | ১৯৬৪ সাল। |
| কালজয়ী বাংলা গান | ওগো প্রিয়তমা, অনেক সাধের ময়না আমার। |
| জনপ্রিয় উর্দু গান | হাম চালে চক্কর, ইয়ে সামা প্যায়ারা প্যায়ারা, তুমজো মিলে প্যায়ার মিলা। |
| রিয়েলিটি শো | পাকিস্তানি আইডল (জিও টিভি)। |
| বিশেষ পর্বের থিম | ভালোবাসা এবং বন্ধুত্ব। |
পাকিস্তানি আইডলের সেটে বশীর পরিবারের সদস্যদের যে রাজকীয় সম্মান জানানো হয়েছে, তাতে আপ্লুত হোমায়রা বশীর। তিনি জানান, সেটে প্রবেশের সময় তাঁদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয় এবং রাহাত ফতেহ আলী খান তাঁদের ‘বশীর আহমেদ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি’ বলে সম্বোধন করে স্বাগত জানান। রাজা বশীর অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছেন যে, কেবল প্রবীণরাই নন, বর্তমান প্রজন্মের (জেন-জি) তরুণরাও বশীর আহমেদের সুর ও গানের সাথে ওতপ্রোতভাবে পরিচিত।
বশীর আহমেদ তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান—উভয় অঞ্চলেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। ‘তালাশ’ সিনেমায় বিখ্যাত তালাত মাহমুদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছিল। তাঁর উত্তরসূরিদের মাধ্যমে সেই সুরের ধারা আবারও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হলো।
১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসা হোমায়রা ও রাজা বশীরের এই বিশেষ পর্বটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে জিও টিভিতে প্রচারিত হবে। এই আয়োজনটি নিঃসন্দেহে বাংলা ও উর্দু গানের এক বিরল সেতুবন্ধন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।