খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়ায় নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ব্যবহার করে শিশুখাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার গুরুতর অভিযোগে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভোক্তা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অনিরাপদ খাদ্যপণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বগুড়া জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে। শহরের আটাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আবিদ ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় অভিযান চালিয়ে একাধিক ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমদ।
অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য ব্যবহৃত খাদ্য তাল মিসরি উৎপাদনে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, নকল ও বিভ্রান্তিকর মোড়কে পণ্য মোড়কজাত করে বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতিও চলছিল। কারখানার ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা, যা খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পাশাপাশি চানাচুর, সেমাই ও বুন্দিয়া তৈরিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণ মেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী এসব অপরাধ শাস্তিযোগ্য হওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মেসার্স আবিদ ট্রেডার্সকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে অনিরাপদ শিশুখাদ্য, কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় বাজারে প্রবেশের কোনো সুযোগ না পায়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, শিশুখাদ্যে নিষিদ্ধ রং ব্যবহার একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলেন, “ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।”
অভিযান পরিচালনায় বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে জড়িত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
নিচে অভিযানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | মেসার্স আবিদ ট্রেডার্স |
| অবস্থান | আটাপাড়া, বগুড়া |
| অপরাধের ধরন | নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ব্যবহার, নকল মোড়ক, অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন |
| আইন | নিরাপদ খাদ্য আইন |
| জরিমানার পরিমাণ | ৫,০০,০০০ টাকা |
| জব্দকৃত পণ্য | শিশুখাদ্য, চানাচুর, সেমাই, বুন্দিয়া ও কাঁচামাল |
| ব্যবস্থা | জরিমানা আদায় ও পণ্য ধ্বংস |
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে ভোক্তারা যেমন সুরক্ষিত হবেন, তেমনি বাজারে মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।