খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনার আশিবিঘা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হোসেন (২২) নামের এক তরুণ স্থানীয় সেলুনে বসে থাকা অবস্থায় দুই দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হয়েছেন। নিহত রাকিব ওই এলাকার বাসিন্দা, আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাকিব সেলুনে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে দুই ব্যক্তি সেলুনে প্রবেশ করে তাকে জোর করে টেনে বাইরে রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে হামলাকারীরা রাকিবের মাথায় কাছ থেকে পরপর দুটি গুলি করে। রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত রাকিবকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত রাকিবের বিরুদ্ধে মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে। হামলায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর।”
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুহিন উজ জামান জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | রাকিব হোসেন |
| বয়স | ২২ বছর |
| ঠিকানা | আশিবিঘা, লবণচরা, খুলনা |
| হত্যার স্থান | স্থানীয় সেলুনের সামনে |
| সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা (প্রায়) |
| হামলাকারীর সংখ্যা | ২ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | গুলি (২টি শট) |
| হত্যার সম্ভাব্য কারণ | আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধ |
| নিহতের পূর্বের মামলা | ৩টি (মাদকসহ) |
| পুলিশ তদন্ত অবস্থা | হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশিবিঘা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ও সন্ত্রাসের কার্যক্রম বেড়ে গেছে। পুলিশও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং এলাকায় সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ অভিযোগকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশী টহল চালানো হচ্ছে।