খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে মাঘ ১৪৩২ | ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাপান আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি–কারিওয়াকে পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিয়েছে। নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) পরিচালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ধাপে ধাপে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করছে। তবে গত মাসে একটি চুল্লির পুনঃচালনা পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি অ্যালার্ম–সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রুটিটি কারিগরি সেটিংসজনিত এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো বা চুল্লির স্থিতিশীলতায় কোনো ঝুঁকি তৈরি করেনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান তাকেয়ুকি ইনাগাকি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা সম্পন্ন করে ৯ ফেব্রুয়ারি চুল্লিটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যালার্মের ত্রুটিটি মূলত সফটওয়্যার ও কনফিগারেশন–সংক্রান্ত ছিল; সেটি সংশোধনের পর পুনরায় পরীক্ষা চালানো হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা প্রোটোকল হালনাগাদ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কাশিওয়াজাকি–কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একাধিক চুল্লি নিয়ে গঠিত এবং উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা দাইইচি কেন্দ্রে তিনটি চুল্লির গলনজনিত দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাপান সরকার দেশের অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। এরপর নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়, ভূমিকম্প ও সুনামি মোকাবিলায় অবকাঠামোগত শক্তিশালীকরণ, জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, বহুমাত্রিক কুলিং ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ–পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানো হয়। কাশিওয়াজাকি–কারিওয়াতেও এসব সংস্কার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে।
জ্বালানি আমদানিনির্ভর জাপানের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু করা অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে একটি স্থিতিশীল উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। তারা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বড় আকারের পারমাণবিক স্থাপনার ঝুঁকি, জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নিচের সারণিতে কাশিওয়াজাকি–কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | নিগাতা প্রদেশ, জাপান |
| পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান | টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) |
| বৈশিষ্ট্য | বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র |
| চুল্লির সংখ্যা | একাধিক ইউনিট |
| পুনঃচালুর লক্ষ্য তারিখ | ৯ ফেব্রুয়ারি |
| সাম্প্রতিক ত্রুটি | অ্যালার্ম সেটিংসজনিত কারিগরি সমস্যা |
| নিরাপত্তা মূল্যায়ন | সংশোধনের পর পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন |
সব মিলিয়ে, কাশিওয়াজাকি–কারিওয়ার পুনঃচালু জাপানের জ্বালানি নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। তবে নিরাপত্তা, জনআস্থা ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বজায় রেখে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে কি না—তা নির্ভর করবে ধারাবাহিক তদারকি, স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের বাস্তব প্রয়োগের ওপর।