খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেও সেখানে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করছে, দলগুলোর এই অবস্থান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আজ শনিবার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রথা অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেছে। তবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, বিএনপিসহ অধিকাংশ বড় রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, বিশেষ সুরক্ষা আইন বা বৈষম্য বিলোপের মতো মৌলিক দাবিগুলোর কোনো উল্লেখ নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি এই ‘নির্মম উপেক্ষা ও অবহেলা’ ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় সংকট সৃষ্টি করবে। পরিষদ সতর্ক করে দিয়েছে যে, দলগুলোর এই অনীহার নেতিবাচক প্রভাব যদি নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়, তবে তার দায়ভার সংখ্যালঘুদের ওপর চাপানো যাবে না।
| বিষয় | বিবরণ ও পরিষদের দাবি |
| জাতীয় ইশতেহার | দলগুলোর ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অনুপস্থিত। |
| সাম্প্রদায়িক সহিংসতা | সহিংসতাকে কেবল ‘রাজনৈতিক’ তকমা দিয়ে লঘু করে দেখার প্রবণতা। |
| মৌখিক প্রতিশ্রুতি | নির্বাচনী জনসভার মৌখিক আশ্বাস সংখ্যালঘু মনে আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ। |
| ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ | অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং রাষ্ট্রীয় বৈষম্য দূরীকরণে আইনি কাঠামোর অভাব। |
বিবৃতিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। মনীন্দ্র কুমার নাথ দাবি করেন, ওই সাক্ষাৎকারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে নিছক ‘রাজনৈতিক বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঐক্য পরিষদের মতে, দীর্ঘদিনের এই সাম্প্রদায়িক নিগ্রহকে কেবল রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সত্যকে আড়াল করার নামান্তর। এটি মূলত সহিংসতার শিকার সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথকে সংকুচিত করে এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ করে দেয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনী প্রচারণায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য যে ‘অভয়দান’ বা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা বাস্তবে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে দেওয়া এমন প্রতিশ্রুতি পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়িত হয় না। ফলে আইনি সুরক্ষা এবং লিখিত অঙ্গীকার ছাড়া কেবল বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের মনে আস্থা ফিরছে না।
পরিষদ আশা প্রকাশ করে যে, ভোটগ্রহণের পূর্বেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভুল সংশোধন করবে এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপের ঘোষণা দেবে। অন্যথায় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।