খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নেপালের পোখারায় আজ সমাপ্ত হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদলে। তবে দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত সেরা সব অর্জনে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের বিস্ময়বালিকা আলপি আক্তার। পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফরোয়ার্ড একই সাথে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে ফুটবল বিশ্বে নিজের আগমনের বার্তা দিয়েছেন।
আজকের মেগা ফাইনালে ভারতীয় রক্ষণভাগকে ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধ থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ভারতীয় মেয়েরা চারবার বাংলাদেশের জাল কাঁপায়। তবে ফাইনালের স্কোরলাইন দিয়ে আলপি আক্তারের পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বিচার করা সম্ভব নয়। রাউন্ড রবিন লিগ পর্বে আলপি ছিলেন এককথায় অপ্রতিরোধ্য। ভুটান ও স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে তাঁর করা ব্যাক-টু-ব্যাক হ্যাটট্রিক বাংলাদেশকে ফাইনালে তোলার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে।
লিগ পর্বে বাংলাদেশের করা মোট ১৮টি গোলের মধ্যে এককভাবে ৭টি গোলই এসেছে আলপির পা থেকে। ফলে গোল্ডেন বুট জেতাটা ছিল তাঁর জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ বা টুর্নামেন্ট সেরার ট্রফিটি হাতে নেওয়া ছিল আলপির জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারের হাত থেকে যখন তিনি ট্রফি গ্রহণ করছিলেন, তখন শিরোপা হারানোর বেদনায় তাঁর চোখমুখ কিছুটা ম্লান থাকলেও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের তুমুল করতালিতে মুখর ছিল পোখারা স্টেডিয়াম।
| পুরস্কারের নাম | বিজয়ীর নাম | দেশ | বিশেষ কৃতিত্ব |
| সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) | আলপি আক্তার | বাংলাদেশ | ৭টি গোল (ভুটান ও নেপালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক) |
| টুর্নামেন্ট সেরা (গোল্ডেন বল) | আলপি আক্তার | বাংলাদেশ | আক্রমণ ও মাঝমাঠে অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ |
| সেরা গোলরক্ষক | মুন্নি | ভারত | পুরো টুর্নামেন্টে নিরেট প্রাচীর হয়ে থাকা |
| ফেয়ার প্লে ট্রফি | ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল | ভারত | সুশৃঙ্খল আচরণের স্বীকৃতি |
আলপি আক্তারের এই অভাবনীয় সাফল্য দেশের ফুটবলের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। এর আগে ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ আসরে বাংলাদেশের তারকা স্ট্রাইকার সাগরিকা ৪ গোল করে একই সাথে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন। আলপি এবার ৭ গোল করে সেই ব্যক্তিগত ‘ডাবল’ অর্জনের পুনরাবৃত্তি করলেন।
মঞ্চে পুরস্কার বিতরণের সময় সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আলপিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। যদিও আলপির লক্ষ্য ছিল শিরোপা জেতা, তবুও তাঁর এই অর্জন আগামী দিনে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পাইপলাইন যে কতটা শক্তিশালী, তারই প্রমাণ দেয়। আলপির মতো উদীয়মান তারকারা যদি সঠিক পরিচর্যা পান, তবে সিনিয়র সাফেও বাংলাদেশের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের লড়াকু মানসিকতা ছিল প্রশংসনীয়। তবে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ডিফেন্স এবং ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। কোচিং স্টাফরা মনে করছেন, আলপির মতো ফরোয়ার্ডদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিলে তাঁরা ভবিষ্যতে আরও নিখুঁত হয়ে উঠবেন। পোখারার এই মাঠ থেকে আলপি আক্তার যে দুটি ট্রফি নিয়ে ফিরছেন, তা কেবল তাঁর শোকেস বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের তৃণমূলের হাজারো কিশোরীকে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখাবে।