খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তিনি বলেন, “যতটুকু সংস্কার করার সুযোগ ছিল, যতটুকু বিচার করার জায়গা ছিল—সবই শেষ হয়ে গেছে। এরা এখন আর নতুন কিছু করার অবস্থায় নেই।”
রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনো সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সীমার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন তাদের মূল কাজ হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।”
সিজিএস সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট অংশগ্রহণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করতে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। দেশব্যাপী ৫০৫ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
| জরিপ বিষয় | ফলাফল (%) |
|---|---|
| নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বিগ্ন | ৫০% |
| নিজেকে অনিরাপদ মনে করা | ২৫%+ |
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ভোটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা স্পষ্ট।
ফলাফল প্রকাশের পর আলোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। বলা হয়, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক ছাতার নিচে থাকবে—কিন্তু সেই ছাতা তো বাস্তবে খোলা হয়নি। ফলে বৃষ্টি পড়ছে, সমস্যার মোকাবিলা হচ্ছে না।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচন যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তবে এখনও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার সুযোগ আছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “নারী হোক, সংখ্যালঘু হোক বা ভিন্নমতের রাজনীতির মানুষ হোক—নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ভোটের আগেও এবং ভোটের পরেও নিরাপদ রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। এটি সরকারের শেষ সুযোগ হতে পারে ইতিহাসে কিছু ইতিবাচক কাজের স্বাক্ষর রাখার।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।