খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাবনার সদর উপজেলার হিমাইতপুরের চর শিবরামপুর এলাকায় গত শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা রমজান আলীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং দুই পক্ষই বিক্ষোভে নেমে আসে।
রমজান আলী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং হিমাইতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি। তিনি একই সঙ্গে চর শিবরামপুর ভোটকেন্দ্রের পরিচালক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ভোট প্রচার শেষে মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জামায়াতের অভিযোগ, এ হামলার সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যুক্ত। অভিযোগের প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা শহরের শহীদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। মিছিলে বক্তব্য রাখেন:
| নাম | পদবি |
|---|---|
| আবদুল লতিফ | পাবনা পৌর জামায়াতের আমির |
| রেজাউল করিম | শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি |
| হাফেজ আবু মুসা | শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক |
| ইব্রাহিম খলিল আইনুল | সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি |
এদিকে একই সময়ে শহরে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে পাবনা প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নেতারা অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন,
“একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত মিথ্যাচার করছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জখম করা আমাদেরও মর্মাহত করেছে, তবে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী এতে জড়িত নয়। বিষয়টি পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদজনিত।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার ফলে পাবনা জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই পক্ষই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে।