খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের নির্বাচনী প্রচার তোলপাড় করছে। প্রচারের ব্যানার ও লিফলেটে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার’, যদিও বাস্তবে তিনি বরিশাল নগরের সিটি কলেজের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত।
বেসরকারি কলেজের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপকই সর্বোচ্চ পদ। সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপকের পরে ‘সহযোগী অধ্যাপক’ এবং সর্বশেষ ‘অধ্যাপক’ পদ রয়েছে। এই পদগুলোতে পদোন্নতির সঙ্গে জাতীয় বেতন স্কেলের উচ্চতর গ্রেড যুক্ত থাকে।
বরিশাল সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, “বেসরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপকের পর আর কোনো পদ নেই। আব্দুল জব্বার ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি দুই বছর পর অবসর গ্রহণ করবেন। নামের আগে ‘অধ্যাপক’ ব্যবহার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচলিত রীতিনীতির অংশ।”
নির্বাচন সংক্রান্ত দলীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী:
| পদের নাম | অবস্থান | বেতন স্কেল / গ্রেড | পদোন্নতির সময়কাল | পদোন্নতির পরবর্তী পদ |
|---|---|---|---|---|
| প্রভাষক | প্রথম পদ | গ্রেড-৬ | এমপিভুক্তির ৮ বছর পর | সহকারী অধ্যাপক |
| সহকারী অধ্যাপক | সর্বশেষ পদ (বেসরকারি কলেজ) | গ্রেড-৬ | অবসরের আগে পর্যন্ত | সরকারি কলেজে ‘সহযোগী অধ্যাপক’ |
| সহযোগী অধ্যাপক | সরকারি কলেজে | জাতীয় বেতন স্কেল গ্রেড-২ | পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী | অধ্যাপক |
| অধ্যাপক | সরকারি কলেজে | জাতীয় বেতন স্কেল গ্রেড-৩ | পদোন্নতি অনুমোদনের পর | সর্বোচ্চ পদ |
নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারকৃত ‘অধ্যাপক’ উপাধি নিয়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। বরিশাল জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “নির্বাচনে ভোটারদের কাছে মিথ্যা কর্মপরিচয় দেওয়া আচরণবিধির আওতায় পড়ে না। এটি একজন প্রার্থীর নৈতিকতার বিষয়।” তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের বরিশাল মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম মন্তব্য করেছেন, “পরিচয় বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর হলে তা প্রার্থীর নৈতিক চরিত্রের ওপর প্রশ্ন তোলে।”
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি; তার মোবাইল বন্ধ ছিল। নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান জহির উদ্দিন ইয়ামিনও প্রার্থীর ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখযোগ্য হলো, শিক্ষাজীবনের প্রথা ও প্রচলিত রীতির কারণে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা প্রায়ই পদমর্যাদা দেখাতে ‘অধ্যাপক’ উপাধি ব্যবহার করেন। তবে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে।