খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এর ফলে গত ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার পর্বের অবসান ঘটছে।
নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহের আগে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে। এই বিধান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচারণা বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে প্রচার বন্ধ করা হচ্ছে। প্রচারণা বন্ধের পর কোনো প্রার্থী বা দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করায় মোট আসনের সংখ্যা ৩০০ থেকে কমে ২৯৯-এ দাঁড়িয়েছে।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন, যা নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ২৯১ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী দিয়েছে। দলটির ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে আছেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও প্রতীকভিত্তিক বৈচিত্র্য চোখে পড়ছে। এর মধ্যে ৭৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র ও অংশগ্রহণকারী প্রধান দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা নিচের ছকে তুলে ধরা হলো—
| দল/শ্রেণি | প্রতীক | প্রার্থীর সংখ্যা |
|---|---|---|
| বিএনপি | ধানের শীষ | ২৯১ |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | হাতপাখা | ২৫৮ |
| বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | দাঁড়িপাল্লা | ২২৯ |
| জাতীয় পার্টি | লাঙ্গল | ১৯৮ |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | শাপলা কলি | ৩২ |
| স্বতন্ত্র (ফুটবল প্রতীক) | ফুটবল | ৭৬ |
| মোট প্রার্থী | — | ২,০৩৪ |
প্রচারণা পর্বের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে এখন দেশ প্রবেশ করছে নির্বাচনী নীরবতা ও প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে। ভোটারদের শান্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই সময়ের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।