নির্বাচনে দূরপাল্লার বাসে নিষেধ নেই

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় একগুচ্ছ বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এসব বিধিনিষেধের আওতায় মোটরসাইকেলসহ কয়েক ধরনের যানবাহনের চলাচল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের দিন দেশের সব দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ বিষয়ে বাস–ট্রাক মালিক সমিতি স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।

মালিক সমিতির তথ্যমতে, নির্বাচনকালীন সময়ে দূরপাল্লার বাস চলাচলের ওপর কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই। সংগঠনের সভাপতি রমেশ চন্দ্র ঘোষ গণমাধ্যমকে জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি নিয়মিতভাবেই বাস চলাচল করবে। তবে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ রুটে সার্ভিস সীমিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি পরিবহনশ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বহু চালক, সহকারী ও টিকিট বিক্রয়কর্মী ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় যেতে ছুটি চেয়েছেন। ফলে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কিছু রুটে বাস চলাচল কমে যেতে পারে। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাতের দিক থেকে ধীরে ধীরে সার্ভিস পুনরায় চালুর প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি জানান।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩২ ধারার আলোকে ভোটের দিন নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এর উদ্দেশ্য নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যান চলাচলের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে শিথিলতা রাখা হয়েছে। জরুরি সেবা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যান চলাচলেও অবকাশ থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকালে পরিবহন ব্যবস্থায় এই ধরনের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হলেও যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রা পরিকল্পনা করা জরুরি। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি দিনের বেলায় দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা কম থাকতে পারে। তাই যারা ভোটের দিন ভ্রমণ করতে চান, তাদের আগাম টিকিট নিশ্চিত করা, বিকল্প যাত্রাপথ বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনে রাতের সার্ভিসের সময়সূচি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিচের সারণিতে নির্বাচনকালীন যান চলাচলের বিধিনিষেধের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

যানবাহনের ধরন নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা অবস্থা শিথিলতা/ব্যতিক্রম
ট্যাক্সি ক্যাব ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ১২টা চলাচল বন্ধ জরুরি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে শিথিলতা
পিকআপ একই সময়সীমা চলাচল বন্ধ জরুরি পণ্য পরিবহন ব্যতিক্রম
মাইক্রোবাস একই সময়সীমা চলাচল বন্ধ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যতিক্রম
ট্রাক একই সময়সীমা চলাচল বন্ধ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে শিথিলতা
মোটরসাইকেল ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ১২টা (মোট ৭২ ঘণ্টা) সম্পূর্ণ বন্ধ জরুরি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে সীমিত শিথিলতা
দূরপাল্লার বাস সার্বিক নিষেধ নেই সীমিতভাবে চলতে পারে শ্রমিকের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল
স্থানীয় যাত্রীবাহী যান সার্বিক নিষেধ নেই প্রয়োজন অনুযায়ী চলবে প্রশাসনিক অনুমোদনে শিথিলতা

সব মিলিয়ে, নির্বাচন উপলক্ষে দূরপাল্লার বাস চলাচলে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণের কারণে সেবায় সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।