খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কানাডার টরন্টোতে অধ্যয়নরত অত্যন্ত মেধাবী ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাফওয়ান জাহিদ (২৫) গত ২ ফেব্রুয়ারি নিজ অ্যাপার্টমেন্টে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং তার জন্মভূমি বাংলাদেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দেশের প্রথিতযশা ব্যাংকার, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিবিও) ডা. জাহিদ হোসেন এবং কানিতা রহমানের একমাত্র পুত্র ছিলেন।
সাফওয়ান জাহিদ ছিলেন একজন অনন্য সাধারণ মেধাবী। তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে একই সাথে এমবিএ (MBA) এবং এমএ (MA) ডিগ্রির শেষ টার্মে অধ্যয়ন করছিলেন। তার মেধার স্বাক্ষর কেবল ক্লাসরুমেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি বিখ্যাত ‘ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাকশন ল্যাব’-এর স্কলার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে তার ছিল গভীর আগ্রহ ও দখল। তিনি টরন্টোভিত্তিক এআই স্টার্টআপ ‘ম্যাট্রা (MATRA)’-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি শোয়ার্টজ রেইসম্যান ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কানাডা সরকারের ‘সেইফ এআই’ বা নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন।
সাফওয়ান জাহিদের জীবন ও কৃতিত্বের সংক্ষিপ্ত চিত্র:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নাম | মোহাম্মদ সাফওয়ান জাহিদ (২৫) |
| পিতা | ডা. জাহিদ হোসেন (ডিএমডি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক) |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো (এমবিএ ও এমএ) |
| প্রতিষ্ঠাতা | ম্যাট্রা (MATRA) – এআই স্টার্টআপ |
| বিশেষ সম্মান | ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাকশন ল্যাব স্কলার |
| উপদেষ্টা | কানাডা সরকারের ‘সেইফ এআই’ নীতিনির্ধারণী প্যানেল |
| মৃত্যুর স্থান ও তারিখ | টরন্টো, কানাডা; ২ ফেব্রুয়ারি |
সাফওয়ানের মৃত্যুতে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে একজন ‘ব্যতিক্রমী মেধাবী’ শিক্ষার্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন, যার সামনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর টরন্টোর বায়তুল আমান মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জানাজায় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তার সহপাঠীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সাফওয়ানের বাবার সাবেক সহকর্মী ব্যাংকার রুনা লায়লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “একটি সুন্দর স্বপ্ন এভাবে মাঝপথে ভেঙে যাবে তা কল্পনা করাও কঠিন। শৈশব থেকে যাকে বড় হতে দেখেছি, তার এই বিদায় মেনে নেওয়া অসম্ভব।”
সাফওয়ানের এই মৃত্যু কানাডায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কানাডায় যাওয়া অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, মানসিক চাপজনিত সমস্যা এবং আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতা অন্যতম। সাফওয়ানের মতো একজন প্রতিভাবান তরুণের বিদায় কেবল একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তার এই অকাল প্রয়াণে শোকাতপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মেধা ও মননে ভাস্বর এই তরুণ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার কাজ ও স্বপ্নের মধ্য দিয়ে।