খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য রেফারেন্ডাম ঠিক কয়েক দিন আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মুহূর্তে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এই সাফল্যকে দেশের মোট আর্থিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি জানালেন, প্রধান কারণ হিসেবে বৈদেশিক প্রবাসী কর্মীদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪.০৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) BPM6 পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ২৯.৪৮ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জানুয়ারিতেই বাংলাদেশ প্রায় ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, আর ফেব্রুয়ারির প্রথম আট দিনে inflow ইতিমধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই অর্থের প্রবাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত ডলার ক্রয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিক্রয় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে, এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। সোমবার, ১৯টি ব্যাংক মাল্টিপল প্রাইস নিলাম (MPA) ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০৯ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে, যেখানে ডলার কাট-অফ রেট নির্ধারিত হয়েছে ১ মার্কিন ডলার প্রতি ১২২.৩০ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়: সাম্প্রতিক অর্থবছরের তুলনা
| অর্থবছর | ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয় (বিলিয়ন USD) | রিজার্ভে প্রভাব |
|---|---|---|
| ২০২৫–২৬ (বর্তমান) | ৪.৭৩ | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
| ২০২৩–২৪ | ১.০০ | বাজার স্থিতিশীলতা রক্ষা |
| ২০২২–২৩ | ১.০০ | রিজার্ভ সংরক্ষণ |
| ২০২১–২২ | ১.০০ | সীমিত প্রভাব |
গত তিন অর্থবছরে বাজারে তরলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে: ২০২১–২২ সালে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২–২৩ সালে ১৩.৫ বিলিয়ন, এবং ২০২৩–২৪ সালে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ব্যাংক থেকে ক্রয় মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বর্তমান ডলারের সরবরাহ তাৎক্ষণিক চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রণবিহীন ওঠা-নামা মুদ্রার বিনিময় হারে কৃত্রিম পতন ঘটাতে পারে। তাই বাজার থেকে সক্রিয়ভাবে ডলার ক্রয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতকে সুরক্ষা দিচ্ছে, এবং নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করছে।