খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা, যারা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় কালীগঞ্জ শহরের একটি মিলনায়তন কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ব্যাংকার রাসেল আহমেদ, তার বাবা তাজউদ্দিন আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের নেত্রী জহুরা বেগম এবং রাসেল আহমেদের স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তারা রাশেদ খানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিভিন্ন প্রমাণাদি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
রাসেল আহমেদ জানান, “রাশেদ খান বিভিন্ন সময়ে চাকরি ও জাতীয় রাজনীতিতে সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমার কাছ থেকে কোটি টাকার কম নয় এমন অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন খরচের জন্য ওই অর্থ দিয়েছি। দেড় বছরে তার কাছ থেকে প্রায় ৩২ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চীন সফরের আগে পর্যন্তও সে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “তার দাবি ছিল জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হলে ভালো মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেনা সম্ভব। আমার কাছ থেকে সেইসব জিনিসপত্রের মূল্যও নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ একটি গাড়ির ১৬টি কিস্তির টাকাও আমার কাছ থেকে পেয়েছে, যার নাম ঢাকার একজনের নামে। এভাবে আমি ও আমার পরিবার সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিনাইদহ শাখায় পিওন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাশেদ খান আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু চাকরি এবং টাকা কিছুই পাইনি।”
নারী অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরা বেগম জানান, “নির্বাচনের জন্য প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে আমি ৫ লাখ টাকা দিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কখনো কাউকে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিইনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এসব নিয়ে সংবাদ না করাই শ্রেয়।”
নিচের টেবিলটিতে মূল অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:
| ভুক্তভোগীর নাম | অভিযোগের ধরন | পরিমাণ (টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| রাসেল আহমেদ | প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়া | ৩২,০০,০০০+ | মোবাইল, ল্যাপটপ, গাড়ি, খরচ |
| আমিরুল ইসলাম | চাকরি দেওয়ার প্রলোভন | ৫,০০,০০০ | চাকরি ও টাকা পাইনি |
| জহুরা বেগম | নির্বাচনী প্রলোভন | ৫,০০,০০০ | দলীয় প্রোগ্রামের জন্য টাকা নেওয়া |
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা সরকারের কাছে ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং এমন প্রতারণার শাস্তির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।