খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যখন দেশজুড়ে কঠোর প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভেতরে এক বড় ধরনের নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অর্থের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৩৩০ জনকে নির্বাচনি ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) দলনেতা মামুন এই জালিয়াতির প্রধান হোতা। তিনি জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে সরকারি প্রশিক্ষণ ছাড়াই ৩৩০ জনের জন্য ভুয়া সনদ তৈরি করেন। পরবর্তীতে নির্বাচনি ডিউটিতে নাম উঠিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন। বিষয়টি বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটের নজরে এলে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ৩৩০ জনকেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দলনেতা মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
| বিষয় | জালিয়াতি ও গৃহীত ব্যবস্থা |
| মূল হোতা | মামুন (টিডিপি দলনেতা, ২২ নম্বর ওয়ার্ড, হাতিরঝিল) |
| অব্যাহতিপ্রাপ্ত সংখ্যা | ৩৩০ জন (হাতিরঝিল) ও ১৩ জন (চট্টগ্রাম) |
| জালিয়াতির ধরন | প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিদের জন্য ভুয়া সনদ তৈরি ও উৎকোচ গ্রহণ |
| রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা | ২ জন নারী দলনেত্রীকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দায়ে অব্যাহতি |
| মোট আনসার সদস্য (নির্বাচনে) | ৫ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি |
| নিরাপত্তা বাহিনীর মোট সদস্য | প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার জন |
জালিয়াতি কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যকে ‘প্রশিক্ষণবিহীন’ হিসেবে শনাক্ত করার পর তাঁদেরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে রাজধানীর গুলশানের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁদের নিবিড় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনি নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারত।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি বৈধ প্রাতিষ্ঠানিক সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো অযোগ্য বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিকে ডিউটিতে রাখা হবে না। এবারের নির্বাচনে ভোটের মাঠের নিরাপত্তায় নিয়োজিত মোট ৯ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের মধ্যে আনসার সদস্যের সংখ্যাই সর্বাধিক—সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি। বিপুল সংখ্যক এই জনবলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বাহিনীটি আরও যোগ করেছে যে, দুর্নীতি বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনকে অবাধ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল ভোটকেন্দ্রে মোতায়েনকৃত সদস্যদের সনদ পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ভুয়া সদস্য ডিউটিতে প্রবেশ করতে না পারে।